জনগণনায় নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের উপর তথ্য বদলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত অভিযোগ জানিয়ে জনগণনা পরিচালনা অধিকর্তাকে (ডিরেক্টর অফ সেন্সাস অপারেশন্স) চিঠি দিয়েছে সরকারি কর্মীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাঁদের দাবি, রাজ্য জুড়ে জনগণনা প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম চলছে। অন্তত দু’টি গুরুতর অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তাঁরা জানতে পেরেছেন। এই ধরনের কার্যকলাপ সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা, সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।
কী কী অনিয়ম হচ্ছে? যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, কারও ঘরে শৌচালয় না-থাকলেও জনগণনাকর্মীদের বলা হচ্ছে, সরকারি পরিসংখ্যানে দেখাতে হবে শৌচালয় রয়েছে। বিদ্যুৎ এবং পরিশুদ্ধ পানীয় জলের সংযোগের ক্ষেত্রেও বলা হচ্ছে, কাউকে বঞ্চিত দেখানো যাবে না। জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন এবং ব্লক প্রশাসনের তরফে সম্মিলিত ভাবে এ বিষয়ে জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি যৌথ মঞ্চের। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘অতীতে এই সমস্ত প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ অর্থ সঠিক ভাবে খরচ করা হয়নি। উল্টে তা কাটমানি হিসেবে বার করে নেওয়া হয়েছে। এখন প্রকৃত তথ্য উঠে এলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নতুন স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যাবে। তা ঢাকতেই তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।’’
আরও পড়ুন:
রাজ্যে জনগণনার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে চিঠিতে যৌথ মঞ্চ জানিয়েছে দুই ধরনের অনিয়মের কথা। প্রথমত, শৌচাগার সংক্রান্ত তথ্য ধামাচাপা দেওয়া। যৌথ মঞ্চের বক্তব্য, অতীতে বেশ কিছু জেলাকে রাজ্য সরকার ‘নির্মল বাংলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। বলা হয়েছিল, সেখানে প্রত্যেক বাড়িতে শৌচালয় রয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ হয় না ওই জেলাগুলির কোথাও। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক বাড়িই এখনও শৌচালয়হীন। সেই তথ্য এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয়ত, সরকারি সুবিধা ভোগের স্বার্থে ইচ্ছাকৃত পরিবার বিভাজন। যৌথ মঞ্চ জানিয়েছে, গ্রামগঞ্জে অনেক পরিবার সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধালাভের আশায় নিজেদের গৃহস্থালিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দেখাচ্ছেন। এই কারচুপি জনগণনার প্রকৃত তথ্যকে বিকৃত করছে।
সমস্যার সমাধানের জন্য তিনটি দাবি কর্তৃপক্ষের সামনে রেখেছে যৌথ মঞ্চ। বলা হয়েছে, বাহ্যিক কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জনগণনাকর্মীরা যাতে নির্ভুল তথ্য নথিভুক্ত করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করতে হবে। তা ছাড়া, জনগণনায় ভুল তথ্য দেওয়া থেকে মানুষ যাতে বিরত থাকেন, তার জন্য ব্যাপক প্রচার অভিযান শুরু করতে হবে। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভুল তথ্য দিলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে যৌথ মঞ্চ।