Advertisement
E-Paper

‘অভিষেকের ভয়ে’ মুখ খুলতে পারেননি, নিয়োগ দুর্নীতিতে লেনদেন নিয়ে এখন সব জানাতে চান! রাজসাক্ষী হওয়ার আর্জি পার্থ ঘনিষ্ট সন্তুর

বেহালার বাসিন্দা সন্তু পেশায় ব্যবসায়ী। প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সিবিআই তদন্তে উঠে আসে সন্তুর নাম।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১৮
Santu Gangopadhyay seeks to become an approver in the primary recruitment case

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। সিবিআই ও ইডি, দুই তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটেও নামও রয়েছে। সেই সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় চান, দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই-কে সব কিছু জানাতে। সিবিআই-কে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়ে নিয়োগ মামলায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সবটা তদন্তকারীদের জানাতে পারেননি! অভিযোগ, রাজসাক্ষী হওয়ার আর্জির খবর জানাজানি হতেই হুমকি পাচ্ছেন সন্তু। তাঁর বাড়ির সামনে অনেকে জমায়েতও করেছিলেন। হুঁশিয়ারিও দেওয়ায় ভয় পাচ্ছেন সন্তু। সেই কারণে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও দেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

বেহালার বাসিন্দা সন্তু পেশায় ব্যবসায়ী। তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সিবিআই তদন্তে উঠে আসে সন্তুর নাম। বার বার তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই দফতরে হাজিরাও দেন তিনি। পরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় সিবিআই। গ্রেফতার করে। বছরখানেক জেলে ছিলেন। বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তার পর পরই রাজসাক্ষী হতে চেয়ে সিবিআই-কে চিঠি দেন সন্তু।

সূত্রের খবর, সন্তু সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, অভিষেকের ভয়ে তিনি ‘চুপ’ ছিলেন। তদন্তকারীদের পুরো বিষয়টা জানাতে পারেননি। তবে এখন তিনি চান সিবিআই-কে পুরো বিষয়টা জানাতে। কী ভাবে তিনি এবং নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ টাকা পৌঁছে দিয়েছিলেন অভিষেককে, তা চিঠিতে জানান সন্তু।

চিঠির বয়ান অনুযায়ী, প্রাথমিকে নিয়োগের বিনিময়ে সন্তু এবং কুন্তলের কাছে থেকে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু পুরো টাকা তাঁরা জোগাড় করতে পারেননি। সন্তুর দাবি, তিনি ২২ লক্ষ এবং কুন্তল ৩.২৮ কোটি টাকা জোগাড় করতে পারেন। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দু’টি কালো ব্যাগে ভরে নিউ আলিপুরের লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে নিয়ে যান তাঁরা। সেই টাকার ব্যাগ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে দেন। জানান, এতে দেড় কোটি কম আছে! টাকা কম আছে শুনে চটে গিয়েছিলেন সুজয়, দাবি সন্তুর। সুজয় বলেছিলেন, ‘‘সাহেব রেগে যাবেন।’’ তাঁর আরও দাবি, অভিষেকও টাকা কম দেখে চিৎকার করেন তাঁদের উপর। এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি টাকা জোগাড় দেওয়ার কথা বলেন। সন্তুর দাবি, তাঁরা কথা দিয়েছিলেন বাকি টাকা দিয়ে দেবেন। এ-ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, বাকি টাকা না-দিলে তাঁদের প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হবে না। ওই সাড়ে তিন কোটি টাকা সুজয়কে সরিয়ে রাখতে বলেন অভিষেক, চিঠিতে দাবি করেন সন্তু। এই টাকা চাকরিপ্রার্থীদের থেকে এজেন্ট মারফত তোলা হয়েছিল।

সিবিআই-কে দেওয়া চিঠিতে সন্তু জানান, তদন্তের সময়ে অভিষেকের প্রভাব ও ভয়ে তিনি এই সব কথা তদন্তকারীদের জানাতে পারেননি। তবে এখন সবটাই সিবিআই-কে জানাতে চান। সেই চিঠির কথা জানার পর তিনি বেশ কয়েক বার হুমকিও পেয়েছেন। তিনি নিজের এবং তাঁর পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও দেন তিনি। তবে এখনও সেই ভয় কাটেনি। তাই পুরো বিষয়টা হাই কোর্টেও জানিয়েছেন।

Primary Recruitment Case Abhishek Banerjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy