এ রাজ্যের কিছু ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে অর্থের বিনিময়ে রক্ত-প্লাজমা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়েই এ বার সক্রিয় হল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। মঙ্গলবার কলকাতার বেলেঘাটা-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় অভিযান চালালেন আধিকারিকেরা। বাজেয়াপ্ত করলেন বেশ কিছু নথি। সূত্রের খবর, কোথায় কোথায় রক্তদান শিবির হয়েছে, তার ফাইল, ছ’মাসের রিকুইজিশন স্লিপ সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন আধিকারিকেরা। সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে দফতরে।
স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্র বলছে, রাজ্য জুড়ে চলা নিয়মিত নজরদারি এবং পর্যালোচনা কর্মসূচির অধীনেই অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারী দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
পূর্ব বর্ধমান
পূর্ব বর্ধমানে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচাঁদাইপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে চার ঘণ্টা ধরে পরিদর্শন করে চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম। অভিযোগ, পরিদর্শনে একাধিক নথিপত্র সংক্রান্ত ত্রুটি এবং রেকর্ডে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। পরিদর্শনকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ সুনেত্রা মজুমদার। ব্লাড ব্যাঙ্কের গত ছ’মাসের রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত নথি, লাইসেন্স, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি নির্দেশিকা মেনে কাজ করা হচ্ছে কি না, তা-ও দেখা হয়। পরিদর্শন শেষে সুনেত্রা জানান, নথিপত্রে বেশ কয়েকটি ত্রুটি এবং রেকর্ডে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দু’দিনের মধ্যে সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রক্ত পাচারের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
হাওড়া
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে হাওড়ার এইচএমসি রোটারি ব্লাড সেন্টারে অভিযান চালানো হয় মঙ্গলবার। একটি সূত্র বলছে, রক্তদান শিবির করে প্রচুর রক্ত সংগ্রহ করে ভিন রাজ্যে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। তার পরেই ডেপুটি সিএমওএইচ অনুপ হাজরার নেতৃত্বে মঙ্গলবার অভিযান চলানো হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে অভিযান চলে। বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। অনুপ জানান, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে তারা কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল সরকারের আমলে এই সব কাজ হয়েছে। নতুন সরকার এসে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত, খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবে। সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিম বর্ধমান
মঙ্গলবার অণ্ডাল মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতরের দুই সদস্যের দল। দুই মহিলা আধিকারিক ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স সংক্রান্ত নথি, রক্ত সংগ্রহ এবং বিতরণের রেকর্ড, রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও স্টক রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন। পরিকাঠামো এবং সরকারি নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখেন। তদন্তকারী দল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। হাসপাতালের চিকিৎসক টিকে রায় বলেন, ‘‘ব্লাড ব্যাঙ্কটির সঙ্গে হাসপাতালের কোনও যোগ নেই। এটি একটি অন্য সংস্থা। আমরা শুধুমাত্র তাদের ঘর ভাড়া দিয়েছি।’’