E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ট্রাইবুনালে সুযোগ পাক অন্য বাদ-রাও, মামলা দায়ের কংগ্রেসের

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:২০

—প্রতীকী চিত্র।

তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র জন্য ভোটার তালিকা থেকে যাঁরা বাদ পড়ছেন, শুধু তাঁরা নন। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর প্রথম পর্বে যাঁদের নাম মৃত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট ও স্থানান্তরিত বলে বাদ গিয়েছিল, তাঁদেরও সুপ্রিম কোর্টের তৈরি আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হোক। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন রিট পিটিশন দায়ের করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু। একই সঙ্গে আপিল ট্রাইবুনালের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেও একগুচ্ছ আর্জি জানানো হয়েছে। কংগ্রেস নেতার আর্জি, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন পুরভোটের কথা মাথায় রেখে পুর-এলাকার বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনকে আপিল ট্রাইবুনালে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ প্রথম ধাপে মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট, অনুপস্থিত বলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। ‘ক্লেমস অ্যান্ড অবজেকশন’ পর্বে আরও ৫.৪৫ লক্ষ নাম বাদ যায়। শেষে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকাভুক্ত আরও ২৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ তকমা দিয়ে বাদ গিয়েছিল। কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু মামলায় যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্যের নতুন সরকার নির্দেশিকা জারি করেছে, যাঁদের নাম এসআইআর-এ বাদ পড়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা পাবেন না। ফলে ভুলবশত ভোটার তালিকা বাদ যাওয়ার ফলে মানুষ শুধু ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নয়। সরকারি সুবিধা থেকেও বাদ পড়ছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর তিনটি ধাপেই যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন জানানোর সুযোগ দিতে হবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে কাদের নাম কেন বাদ পড়েছে, আপিল ট্রাইবুনালে আরও কত নাম বাদের আবেদন জমা হয়েছে, ট্রাইবুনাল কী ভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে। প্রসেনজিতের যুক্তি, “প্রয়োজনে রাজ্যে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র ভিত্তিক একটি করে ট্রাইবুনাল তৈরি করতে হবে।”

শনিবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টে জমা হওয়া রিট পিটিশনে আর্জি জানানো হয়েছে, আপিল ট্রাইবুনালে প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক কত আবেদন ঝুলে রয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ হোক। জানানো হোক, ট্রাইবুনালে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে কত নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছে। ট্রাইবুনাল যে প্রক্রিয়া মেনে কাজ করছে, সেই ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর’ প্রকাশের নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইবুনালে আবেদনের একটি সরলীকৃত প্রক্রিয়া বাংলা, হিন্দি, ইংরেজিতে প্রকাশ করা হোক। আবেদনকারীদের ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রাইবুনালের সামনে হাজিরার সুযোগ দিতে হবে। শুনানির সাত দিন আগে নোটিস দিতে হবে। নাম যোগ করার জন্য ফর্ম-৬-এ ও অন্যের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে কত আবেদন জমা করেছিল, তার কত গৃহীত বা খারিজ হয়েছে, তার বিধানসভা ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ হোক।

নির্বাচন কমিশনেরই তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইবুনালে জমা পড়া ২৪.৯৮ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ১৪ মে পর্যন্ত মাত্র ৬,৫৮১টি মামলার ফয়সালা হয়েছে। এর মধ্যে ৪,০৪৩টি আবেদনে সায় দিয়েছে ট্রাইবুনাল। ভোটার তালিকায় ২,৪৩৬ জনের নাম ফের যোগ হয়েছে। যদিও তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন আপিল ট্রাইবুনালের প্রক্রিয়াগত সমস্যা ও স্বচ্ছতার অভাবের কথা বলে প্রদেশ কংগ্রেসের আইন বিভাগের নেতা শেখ আনোয়ার আলি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। হাই কোর্ট তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অনুমতি দেয়। সেই সূত্র ধরেই কংগ্রেসের এসআইআর কমিটির প্রধান প্রসেনজিৎ এ বার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Tribunal Congress Election Commission

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy