রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিয়মমাফিক বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের (এসএসআর) দিনক্ষণ বদল করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় পিছিয়ে গেল ১২ দিন। এরই মধ্যে বিরোধী বিভিন্ন দল ও নাগরিক সংগঠনের তরফে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হল, ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হয়ে থাকা জট কাটার পরেই পুরভোট করা হোক। ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের নামের তালিকা যাতে রাজ্য কমিশন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়ে নেয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বুধবার প্রকাশ করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোট-কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাসের কাজ হবে ১৩ নভেম্বর থেকে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২৩ নভেম্বর। সে দিন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাধারণের কাছ থেকে আপত্তি-অভিযোগ-দাবিদাওয়া গ্রহণ করা হবে। সেগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে ৮ জানুয়ারির মধ্যে। সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৬ জানুয়ারি। কমিশনের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ২ নভেন্বর থেকে ভোট-কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাসের কাজ হওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল ৪ জানুয়ারি।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় এ দিনই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রসেনজিৎ বসু, মমতা-তৃণমূলের বসুন্ধরা গোস্বামী, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের বাসুদেব বসু, অভীক সাহা, সুজাত ভদ্র প্রমুখ। ভোটার তালিকার জট কাটিয়ে পুরভোটের দাবির পাশাপাশি তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পরে যাঁদের আবেদন ট্রাইবুনালে আছে, তাঁদের পুর-নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁদের বলা হয়েছে, রাজ্য কমিশন এই বিষয়ে নিজেরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা আইনি পরামর্শ নিয়ে দেখতে পারে। পরে প্রসেনজিৎ বলেছেন, ‘‘কলকাতা ও হাওড়া মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ ৬০-৭০ হাজার মানুষ ভোটার তালিকার বাইরে আছেন। তাঁদের বিষয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই পুরভোট হওয়া উচিত, এটা আমাদের প্রাথমিক দাবি। আর রাজ্যে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের আবেদন ট্রাইবুনালে আছে, তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার দাবিও করছি।’’ সিপিএমের কল্লোলের বক্তব্য, ‘‘এটা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জোট নয়। এসআইআর নামক বস্তুটির মাধ্যমে বহু মানুষকে বিধানসভায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এর পরে পুরসভা বা পঞ্চায়েত, পরে লোকসভা ভোটেও সুযোগ পাবেন না— এটা মানা যায় না। তাই আমাদের মনে হয়েছে, একসঙ্গে প্রতিবাদ ও দাবি জানানো প্রয়োজন।’’