মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত মল্লিকার্জুন খড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীদের উপরে পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদ গোটা রাজ্যেই পথে নেমে ‘কালা দিবস’ পালন করল কংগ্রেস। বিভিন্ন জেলা শহরের পাশাপাশি কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ মিছিল হল কলকাতাতেও। প্রতিবাদে নেমে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ‘ভোট চুরি’ করে জিতে আসা নরেন্দ্র মোদীর গোটা সরকারই ‘অবৈধ’! জ্ঞানেশের বিদায় চেয়ে পথে নেমে সরব হয়েছে অন্যান্য সংগঠনও।
প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে বৃহস্পতিবার মিছিল হয়েছে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তি পর্যন্ত। মিছিলে ভিড় হয়েছিল চোখে পড়ার মতোই। মিছিল শেষে ম্যাটাডোর-মঞ্চ থেকে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তা ছিলেন এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, দেবপ্রসাদ রায় প্রমুখ। প্রকাশের বক্তব্য, ‘‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ দিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। মোদী সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে মরিয়া। এক জন জ্ঞানেশের কথা সামনে এসেছে, ২০১৪ সাল থেকে মোদীরা কত জ্ঞানেশকে কাজে লাগিয়েছেন কে জানে! ভোট চুরে করে জেতা এই সরকারই অবৈধ!’’ এই রাজ্যে দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই ভোট চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে এআইসিসি নেতার দাবি, পুলিশ-প্রশাসনের আক্রমণের মুখে যে ভাবে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হয়েছে, তাতে দলের মনোবল বেড়েছে। পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে যতই হামলা-মামলা চলুক, দলের কর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন প্রকাশ, শুভঙ্করেরা।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিপিআইয়ের সভা। রাজাবাজারে। নিজস্ব চিত্র।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবনতির অভিযোগ তুলে এবং সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে এ দিন পথে নেমেছিল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদও। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের অংশ হিসাবে সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীর নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিট থেকে শিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাসভবন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, রাজ্যে ছাত্র-ভোট, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বদলি-বিল প্রত্যাহারের দাবিও তুলছেন তাঁরা।
জ্ঞানেশের পদত্যাগ-সহ নানা দাবিতে সিপিআইয়ের কলকাতা জেলা পরিষদের ডাকে রাজাবাজার মোড়ে ছিল প্রতিবাদ-সভা। প্রতিবাদে ছিলেন দলের কলকাতা জেলা সম্পাদক প্রবীর দেব, মৌসুমী ঘোষ, শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈকত গিরি প্রমুখ।