ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল। বিজেপি সরকার গঠনের দু’মাসের মাথায়, বুধবার সীমান্ত লাগোয়া প্রায় ১০২৫ একর জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে হস্তান্তর করার কথা জানাল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে উপযুক্ত পদক্ষেপ চলবে।
এখনও পর্যন্ত ১৭২.৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার লাগানোর জন্য ১০২৪.৭৫ একর জমির ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের জন্য মুর্শিদাবাদেই ৩৩৭ একর জমি দেওয়া হয়েছে, যা বাকি জেলাগুলির মধ্যে সর্বাধিক। উত্তর ২৪ পরগনায় ৪২ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ একর, কোচবিহারে ৩৯ কিলোমিটারের জন্য ১৩৫ একর, মালদহে ২০ কিলোমিটারের জন্য ১৭৬ একর, নদিয়ায় ১৪ কিলোমিটারের জন্য ৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে সাত কিলোমিটারের জন্য ২৬ একর, দার্জিলিঙে এক কিলোমিটারের জন্য চার একর, উত্তর দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িতে যথাক্রমে ছয় এবং দুই একর করে জমি দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, তারা কোনও অবস্থাতেই সীমান্ত সুরক্ষায় জমির ব্যবস্থা করছে না। ফলে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার লাগানো যাচ্ছে না, অরক্ষিত হচ্ছে সীমান্তবর্তী বহু জেলা।
আধিকারিকদের মতে, সমস্যা ছিল তিনটি ক্ষেত্রে। প্রথম— সরাসরি সরকারি জমি হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয়, বেসরকারি জমি কিনে তা বিএসএফকে হস্তান্তর করা এবং তৃতীয়— কোনও দফতরের জমি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীভূত করে তা কেন্দ্র তথা বিএসএফ-কে দেওয়া। এই তিন ক্ষেত্রেই খরচের কার্যত পুরো অংশ দিয়ে থাকে কেন্দ্র। তার পরেও জমি পাওয়া যায়নি তখন।