E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শিক্ষা-স্বাস্থ্য-শিল্পে শ্বেতপত্রের প্রস্তুতি

শিল্প ক্ষেত্রেও পূর্বতন সরকারকে বিঁধতে চাইছে নবান্ন। তৃণমূলের আমলে ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (বিজিবিএস)-কে ঘিরে বিতর্ক ছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, প্রতিবার কোটি-কোটি টাকা খরচ করে বিজিবিএস হত।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০২৬ ০৬:৪৬
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা বিধানসভায় করেছিল রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, সেই ঘোষণার সূত্র ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশের তোড়জোড় শুরু হয়েছে নবান্নের অন্দরে। এ ব্যাপারে রাজ্য মন্ত্রিসভা সিলমোহরও দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে শ্বেতপত্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং শিল্প দফতর ঠাঁই পাবে। পুজোর আগেই এই তথ্য প্রকাশিত হতে পারে। প্রশাসনের একাংশের দাবি, আগের আমলে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপরিষেবা মূলক দফতরে অর্থের অপচয় বেশি হয়েছিল। তাই এই তিনটি দফতরকেবেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে রাজ্যে সব থেকে চর্চিত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি-ই। আর জি কর কাণ্ডের পরে স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। পালাবদলের পরে ওষুধ, সেবাশ্রয় কর্মসূচি, নিয়োগ, যন্ত্রাংশ কেনা ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাচক্রে, সেবাশ্রয় কর্মসূচির দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়েছে।

প্রশাসন সূত্রের দাবি, সেবাশ্রয় নিয়ে বিস্তর গরমিল এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ওষুধ, বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে। তার আগে স্যালাইন কাণ্ডের পরে ওষুধ সংগ্রহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তৎকালীন মন্ত্রী শুধু গ্রেফতার হননি, একাধিক তৃণমূল নেতাও গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই দুর্নীতিরজেরে এখনও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন হাজার-হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। বিরোধী দল থাকাকালীন বিজেপি এই দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন সরকারকে বিঁধতে এই দুর্নীতিকে হাতিয়ারকরছে গেরুয়া শিবির।

শিল্প ক্ষেত্রেও পূর্বতন সরকারকে বিঁধতে চাইছে নবান্ন। তৃণমূলের আমলে ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (বিজিবিএস)-কে ঘিরে বিতর্ক ছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, প্রতিবার কোটি-কোটি টাকা খরচ করে বিজিবিএস হত। লক্ষ-লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবের উল্লেখও থাকত। কিন্ত বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। নতুন উল্লেখযোগ্য শিল্প বিনিয়োগ আসেনি, বরং রাজ্য ছেড়েছে সাড়ে ছ’হাজারের বেশি শিল্প সংস্থা। প্রশাসন সূত্রের দাবি, ওই বিপুল সরকারি খরচে কে লাভবান হয়েছে, তা খুঁজছে বর্তমান সরকার। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “সরকারি অর্থ মানে সাধারণ মানুষের করের টাকা। তা নয়ছয় করার অধিকার কারও থাকতে পারে না। প্রতিটি অর্থ খরচের হিসাব এবং উদ্দেশ্যস্পষ্ট থাকা জরুরি।’’

প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমনে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিশন (সেই কমিশনে রয়েছেন আইপিএস অফিসার কে জয়রামনও) কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের দাবি, শুধু প্রশাসনিক কর্তা-আধিকারিকেরাই নন, বরং বিধায়ক, সাংসদ এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nabanna Medical

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy