আগামী মাসে দায়িত্ব শেষ হচ্ছে বর্তমান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের। তাঁর স্থানে নতুন ডিজি-র নাম চূড়ান্ত করতে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-এর কাছে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ছয় আইপিএস অফিসারের নাম পাঠাতে চলেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে দু’জন ১৯৯১ সালের, বাকি চার জন ১৯৯৩ ব্যাচের অফিসার।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি পদে পরিবর্তন করেছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময়ে ডিজি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে নতুন ডিজি করা হয় ১৯৯২ ব্যাচের সিদ্ধনাথকে। তাঁর গত ৩০ এপ্রিল অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও, সে সময়ে ভোট চলায় সিদ্ধনাথের চাকরির মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। যা শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবর মাসে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের জন্য স্থায়ী ডিজি নিয়োগের পক্ষপাতীরাজ্য সরকার।
সূত্রের মতে, স্থায়ী ডিজি-র প্রশ্নে ছ’জনের নাম চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। এঁরা হলেন ১৯৯১ ব্যাচের এন রমেশ বাবু ও অনুজ শর্মা। বাকিরা হলেন ১৯৯৩ ব্যাচের। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে, প্রবীণ কুমার, জ্ঞানবন্ত সিংহ ও অজয় কুমার। সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো ছ’টি নামের মধ্যে সিনিয়রিটি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনটি নাম বেছে নেবে ইউপিএসসি। চূড়ান্ত ওই তিনটি নাম পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজ্যের কাছে। যার মধ্যে থেকে একটি নাম বেছে নিতে হবেরাজ্য সরকারকে।
ছ’জন অফিসারের মধ্যে প্রবীণ কুমার বাদে বাকিরা সকলেই পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত। সূত্রের মতে, এই মুহূর্তে ডিজি পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন এন রমেশ বাবু ও প্রবীণ কুমার। এর মধ্যে সিনিয়রিটি বা চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে সকলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এন রমেশ বাবু। অন্য দিকে প্রবীণ বর্তমানে বিএসএফের ডিজি পদে রয়েছেন। প্রায় দেড় দশকের কাছাকাছি সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে কাজ করছেন। যার মধ্যে একটি বড় সময় তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরে কর্মরত ছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশ রোখা ও দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রশ্নে অধুনা যে নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন তা রূপায়ণের দায়িত্ব অনেকাংশে রয়েছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণের কাঁধে। ফলে প্রবীণের পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যাওয়া অনেকাংশেই নির্ভর করছে কেন্দ্রের ইচ্ছের উপরে। বাকিদের মধ্যে সিদ্ধনাথের আগে পীযূষ রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন। তাঁকে নির্বাচনের আগে সরিয়েদেওয়া হয়েছিল।
অন্য দিকে, জ্ঞানবন্ত সিংহ ও অজয় কুমারের নাম রিজ়ওয়ানুর রহমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িয়েছিল। অনুজ শর্মা ২০১৯ সালে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের সময়ে তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের পরে ফের পুলিশ কমিশনার হন তিনি।