যে স্কুলের পরিকাঠামোগত সমস্যা জানতে চাওয়ায় সিজেপি কর্মীর বাবাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে, বাঁকুড়ার সেই কড়িশুণ্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা কেমন, রিপোর্ট নিল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। নিহতের দেহের ময়না তদন্তের রিপোর্ট কেন সামনে আসেনি, মঙ্গলবার কলকাতায় সে প্রশ্ন তোলেন সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। সিজেপির অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা সত্ত্বেও বিজেপির ‘চাপে’ মঙ্গলবার কলকাতার ভারতসভা হল-সহ ছ’টি জায়গায় তাদের সভা করতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বাঁকুড়ার এসপি পিভিজি সতীশ বলেন, “বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।”
১৩ অগস্ট ওই স্কুলের অবস্থার খোঁজ নিতে যান সিজেপি কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ, রাতেই দুষ্কৃতীদের মারে জখম হন তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যালে তাঁর মৃত্যু হয়। রাজ্য পুলিশের দাবি, ১৩ তারিখ হামলার পরে, মাফিকের একটা সেলাই হয়েছিল। ১৫ তারিখ রক্তচাপ ওঠানামা করায় তিনি বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি হন। ডাক্তারেরা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, এমন আঘাতের চিহ্ন পাননি। কিন্তু সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, নৃশংস হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধ না হলে, আইনি পদক্ষেপ হবে।
আব্দুলের গ্রামের স্কুলে রান্নাঘরের ছাউনির ফুটো থেকে জল পড়ে, শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। যদিও বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “স্কুলে পরিকাঠামোগত বিশেষ সমস্যা নেই বলে সরকারকে জানানো হয়েছে।” সূত্রের খবর, স্কুলটিতে পড়ুয়াপিছু শিক্ষকের হার, ক্লাসরুমের অবস্থা ও তিনটি শৌচালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জানানো হয়, ছাত্রীদের জন্য আরও একটি শৌচালয় ও ভবনের একটি তলা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
রবিবার দেহের ময়না তদন্ত হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত রিপোর্ট হাতে আসেনি। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বলেন, “নিহতের দেহে বড় আঘাতের চিহ্ন মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ভিসেরা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে।” তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা হলেও, নিহতের পরিবারের কেউ আসেননি। নিহতের শ্যালক শেখ মহম্মদ আলির দাবি, ‘‘ভাগ্নে (আব্দুল) কলকাতায়। দিদি (হাসিনা বেগম) মানসিক ভাবে স্থিতিশীল নন। পুলিশকে আগেই চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছি।’’ হাসিনা অবশ্য বলেন, ‘‘সোমবার রাতে থানায় যেতে বলেছিল। নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় যাইনি।’’ পুলিশ সুপার জানান, নিহতের বাড়ি থেকে হামলায় ‘ব্যবহৃত’ কিছু বাঁশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আশুতোষ রাঙ্কা এ দিন বার্তা দেন, “আপনারা ভয় দেখাবেন, মারধর করবেন— এতে আন্দোলন আরও বড় হবে।’’ ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া আব্দুলকে ফোনে ‘পাকিস্তানি’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলেছেন বলেও দাবি আশুতোষের। যদিও বিধায়ক অভিযোগ মানেননি। চাপ দিয়ে সভা করতে না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, ‘‘অভিযোগকারীরা আগে ছ’টা সভাঘরের বুকিং স্লিপ প্রকাশ্যে আনুন।’’ প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারেরা আব্দুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুভঙ্করের দাবি, ‘‘রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।”