অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম শারদোৎসব। কলকাতার শারদোৎসব নিয়ে রাজ্য সরকারের মনোভাব এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার মতো রাজ্যের সব দুর্গাপুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না। যেসব পুজো কমিটির প্রয়োজন রয়েছে, বাছাই করে শুধুমাত্র তাদেরই অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রে খবর, ১০ লক্ষ টাকার নীচে বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্য সরকার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের সমস্ত পুলিশ অনুমোদিত পুজো কমিটিকে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়।
২০১৮ সালে দুর্গাপুজোর জন্য কমিটিগুলিকে প্রথম অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। করোনা সংক্রমণের সময় লকডাউনের জেরে আর্থিক সঙ্কটে পড়া পুজো কমিটিগুলিকে সহায়তা করতে ২০২০ সালে অনুদান বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করে রাজ্য সরকার। ধাপে ধাপে সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের সব পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেবে না। বরং যে সব পুজো কমিটির সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বাছাই করে অনুদান দেওয়া হবে।
বুধবার নবান্নে কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সম্মিলিত সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই কর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বালিগঞ্জ কালচারালের অন্যতম কর্তা অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কলকাতার শারদোৎসব সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মতামত জানান। এর পর বুধবার রাতে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দেন অঞ্জন উকিল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘গতকাল সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোরামের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড়, পুজোর অনুদান— এরকম প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই একটি বৈঠক করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি অত্যন্ত সদর্থক মনোভাব নিয়ে আমাদের প্রতিটি কথা শুনেছেন এবং বলেছেন, আপনারা সকলে মিলে শহরবাসীকে একটি সুন্দর পুজো উপহার দেওয়ার জন্য কাজে নেমে পড়ুন।’’ফোরামের তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানানো হয় ওই বার্তায়।
আরও পড়ুন:
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের কর্তার ওই বার্তা ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বহু ছোট পুজো কমিটি আশায় বুক বাঁধছে, এ বার তারা সরকারের কাছ থেকে অনুদান পেতে পারে। রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও অনেক ছোট পুজো কমিটি নিজেদের পুজোর বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি। এমনকি খরচ কমানোর কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পুজো কমিটি থিম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোথাও থিমশিল্পীকেও বদল করা হয়েছে।
উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা পুজো টালা প্রত্যয়ের অন্যতম কর্তা দেবাশিস সোম বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বড় পুজো কমিটিগুলিকে বাদ দিয়ে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের পুজো কমিটি নতুন করে তৈরি হয়েছে। নিজেদের ক্লাবের কর্তাদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই আমরা দেবী আরাধনা করব।’’ অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনী ক্লাবের অন্যতম সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা একেবারেই ছোট পুজো করি। আমাদের পুজোর বাজার ১০ লাখ কেন পাঁচ লাখও নয়। সরকারি অনুদান পেলে পুজোর কলেবর আরও ভাল হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’’