Advertisement
E-Paper

পুলিশের উর্দি জোগাড় করে নাশকতার ছক যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে! হামিম ও অর্পিতার গ্রেফতারিতে মিলল নয়া তথ্য

শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন, জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন বেশ কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক এবং রাজনীতিকও। এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অগস্ট ২০২৬ ১৭:০৮
(বাঁ দিকে) সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হামিম মণ্ডল। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হামিম মণ্ডল। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভেও নাকশতার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। হামিম মণ্ডল এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারের গ্রেফতারির পর তদন্তে এমনটাই উঠে আসছে। এর জন্য পুলিশের উর্দি জোগাড় করারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর আইজি গৌরব শর্মা। তবে হামিম যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি পুলিশের উর্দি জোগাড় করে উঠতে পেরেছিলেন কি না, সেই বিষয়টি এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

বর্ধমান থেকে ধৃত জঙ্গি হামিম বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে ধরা পড়েছেন তাঁর বান্ধবী অর্পিতা। শনিবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন, তা শুক্রবারই জানা যায়। এ বার জানা গেল শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক এবং রাজনীতিক। এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে তেমনটাই উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রায়ের পুত্রকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে মন্ত্রী নিজেও সে কথা জানান। মন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা হচ্ছিল। তাঁর কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা তোলা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ মন্ত্রীর।

সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই জঙ্গিচক্রের সন্ধান পায় এসটিএফ। আইজি গৌরব বলেন, “কয়েক দিন আগেই খবর আসে, হাওড়ার এক সিনিয়র রাজনীতিকের থেকে টাকা তোলার, তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’ করে অপহরণ করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এর সঙ্গে একটি সংগঠন জড়িত বলে খবর আসে। সেই সূত্র ধরে সাহেবগঞ্জের একটি (সমাজমাধ্যম) হ্যান্ডলের দিকে সন্দেহ যায়। হ্যান্ডলটি ছিল অর্পিতা সরকারের।”

পরে অর্পিতার সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের সূত্র ধরে খোঁজ মেলে হামিমের। এসটিএফ-এর আইজি জানান, গত চার বছর ধরে অর্পিতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে হামিমের। প্রথমে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ হয়। পরে দেখাও করেন তাঁরা। হামিম এবং অর্পিতার মধ্যে ‘অ্যাফেয়ার’ ছিল বলেও জানাচ্ছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক মাসে অর্পিতার মাধ্যমে হামিম বিভিন্ন ভাবে জাল ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।

হামিমকে জেরা করে তদন্তকারীরা আরও বেশ কয়েকটি হ্যান্ডলের সন্ধান পান— যেমন, ‘রাণা’, ‘উজ়েইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’, ‘হামাদ’। সবগুলিই পাকিস্তানি হ্যান্ডল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত দুই-তিন মাস ধরে এই হ্যান্ডলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে হামিমের। প্রথমে ইনস্টাগ্রামে ফলো করতে শুরু করেন। তার পরে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামেও যোগাযোগ হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই হ্যান্ডলগুলি পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টির দুষ্কৃতীদলের সঙ্গে যুক্ত। এগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলবাদী প্রচার করা হত এবং তরুণদের ‘টার্গেট’ করা হত। পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন ‘এনক্রিপ্টেড চ্যাটের’ মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। পাকিস্তানি ওই হ্যান্ডলগুলি ব্রিটেন এবং মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এসটিএফের আইজি জানান, পাকিস্তানি ওই গোষ্ঠী মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘টার্গেট’ করার ছক কষেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গতিবিধির উপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামিমের উপরে। মুখ্যমন্ত্রী কোথাও ‘আনগার্ডেড’ থাকতে পারেন কি না, এমন সম্ভাব্য জায়গাগুলির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর উপরে। আইজি বলেন, “দিল্লিতে যন্তর মন্তরে সম্প্রতি যে ছাত্রবিক্ষোভ হল, সেখানেও কোনও ভাবে পুলিশের উর্দি জোগাড় করে নাশকতা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তা ছাড়া কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক এবং রাজনীতিককে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছিল।”

তদন্তে উঠে এসেছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতার আত্মীয়ের বাড়ি এ রাজ্যে। মাঝেমধ্যে আত্মীয়ের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি। তখন দেখা হত হামিমের সঙ্গেও। তবে অর্পিতার মগজধোলাই করে এই চক্রে যুক্ত করা হয়েছিল, না কি তিনি কোনও আর্থিক সুবিধা পেতেন চক্রের থেকে— তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।

Delhi Protest Terrorist STF

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy