রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে নানা পঞ্চায়েতে অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের সদস্যেরা না আসায়, পঞ্চায়েতে কাজ হচ্ছে না। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপির লোকজন হামলা চালাচ্ছে, পঞ্চায়েত দখলের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিলেন, পঞ্চায়েতের দখল নয়, চাই অংশীদারি।
তাঁর এই বার্তাকে অবশ্য ‘ঘুরপথে দখলের চেষ্টা’ হিসাবে দেখছে তৃণমূল। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভিবি-জি রামজি’ (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্পে গতি আনতে নিয়ম বদলের কথাও বলতে শোনা যায়।
পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার পঞ্চায়েত-সহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ দিন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মেচেদার কাছে এক অতিথিশালায় ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত-সহ স্থানীয় স্তরে সবটা এখনও পরিবর্তন হয়নি। আমরা অবশ্য পঞ্চায়েতের দখল চাই না, অংশীদারিত্ব চাই।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘দেখছেন তো, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি আমাদের হয়েছে।’’ সম্প্রতি ৭০ আসনের এই জেলা পরিষদে ‘ভাল তৃণমূলে’র সাহায্যে সভাধিপতি নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। সে পদ্ধতিকেই কি ‘অংশীদারিত্ব’ বলা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক চিত্ত মাইতির দাবি, ‘‘এটা আসলে ঘুরপথে পঞ্চায়েত দখল নেওয়াই।’’
পঞ্চায়েতগুলিতে অচলাবস্থায় অনেক এলাকায় এখনও ১২৫ দিনের কাজ শুরু হয়নি। এ দিন সভায় শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে গতি আনতে প্রয়োজনে নিয়ম বদল করা হবে। পঞ্চায়েত আইনের সংশোধন করা হবে।’’ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ হয়েছে রাজ্যের নানা জেলায়। সভায় হাজির জেলার বিধায়ক, বিজেপি নেতাদের মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘গেল গেল রব তোলার দরকার নেই। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত এইপ্রক্রিয়ার সময় রয়েছে।’’