E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

জিটিএ-তে ‘দুর্নীতির’ তদন্ত হবে, তোপ দাগলেন শুভেন্দু

জিটিএ-প্রধান অনীত থাপা বলেন, ‘‘জিটিএ-তে অডিট বা তদন্তে আমাদের আপত্তি নেই। শুধু জিটিএ-র গোড়ার দিক বা ২০১২ সাল থেকে তা দেখতে হবে।’’

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ০৮:৪৭
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গে প্রথম বার এসেই দার্জিলিং পাহাড়ের ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (জিটিএ)-এর অন্দরে ‘দুর্নীতির’ তদন্তের কথা বললেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পাহাড়ের জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির তদন্ত করে সব চোরকে জেলে পাঠানোর কাজ আমরা করব।’’ তবে কবে, কী ভাবে বা কোন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে তা ভাঙেননি তিনি। জিটিএ-তে ক্ষমতাসীন প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা দীর্ঘদিন তৃণমূলের জোট-সঙ্গী। জিটিএ-প্রধান অনীত থাপা বলেন, ‘‘জিটিএ-তে অডিট বা তদন্তে আমাদের আপত্তি নেই। শুধু জিটিএ-র গোড়ার দিক বা ২০১২ সাল থেকে তা দেখতে হবে।’’ স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, জিটিএ-র সূচনায় ক্ষমতায় ছিল বিজেপির নির্বাচনী জোট-সঙ্গী বিমল গুরুঙ্গের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। অনীতের ইঙ্গিত সে দিকেই।

উত্তরবঙ্গ সফরের সূচনায় বাগডোগরায় শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে উত্তরবঙ্গে আপনারা প্রবেশের সুযোগ এবং স্বীকৃতি দিয়েছেন। উন্নয়নের মাধ্যমে সে ঋণ শোধ করব। উত্তরবঙ্গের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ বিজেপি সরকার করবে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোট-প্রচারে এসে উত্তরবঙ্গের জন্য যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করার আশ্বাসও দেন। শিলিগুড়ি পুরসভাতেও দুর্নীতি হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ। ‘উত্তরকন্যা’র প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ফোন করেন। শিলিগুড়ি পুরসভায় গিয়ে সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করতে বলেন। শিলিগুড়ি শহরের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘পুরসভার দুর্নীতির তদন্তের কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন।’’ যদিও পুরসভার মেয়র তৃণমূলের গৌতম দেব বলেছেন, ‘‘রাজ্য তদন্ত করতেই পারে।’’

২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা আসনে প্রথম জেতে বিজেপি। সাম্প্রতিক ভোটে পাহাড়ের তিনটি বিধানসভা আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছেন। রাজ্যে বিজেপির সরকার আসার পরে, গুরুঙ্গ পাহাড়ে জিটিএ-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিতে সরব হন। জিটিএ-র সদর দফতর ঘেরাও করার ডাকও দেন। যদিও বিজেপির হস্তক্ষেপে তা হয়নি। গুরুঙ্গের দাবি, ‘‘জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে।’’ একই সুরে সম্প্রতি আক্রমণ শানান দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীও জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তবে গুরুঙ্গ এবং বিজেপিকে চাপে রাখতে ২০১২-২০১৭ পর্যন্ত জিটিএ-তে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতি, নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে করানোর দাবিতে গত ১৫ মে জিটিএ প্রধান সচিবে‌র কাছে লিখিত আর্জি জানিয়েছে প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। তাদের দাবি, ২০১৭ সালে পাহাড়ছাড়া হওয়ার আগে, পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি করেছিলেন তৎকালীন জিটিএ-প্রধান গুরুঙ্গ। সুতরাং, তদন্ত হলে প্রথমেই আসা উচিত গুরুঙ্গ-আমলের কথা। প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা নেতারা বলছেন, ‘‘প্রয়োজনে, আইনের রাস্তায় হাঁটতে হতে পারে।’’

উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এমস, ক্যানসার হাসপাতাল, আইআইএম, আইআইটি চালু হবে বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তবে জানান, সে সব এক জেলায় হবে না। জানান, প্রতি মাসে এক বার করে তিনি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যেরা উত্তরবঙ্গে আসবেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‘প্রতি সপ্তাহে এক দিন উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী (নিশীথ প্রামাণিক)। শুনবেন মানুষের অভাব-অভিযোগ।’’ প্রশাসনিক বৈঠকে মনে করিয়ে দেন, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় নীতি বজায় থাকবে। কাটমানি আদায়, তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি বরদাস্ত করা হবে না।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
GTA Anit Thapa

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy