E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভাঙন রোধে কেন্দ্রের সাহায্য চান শুভেন্দু

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের শেষে তিনি দাবি করেন, পনেরো বছর পরে ওই মন্ত্রকের কোনও বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গেও আলাদা করে দেখা করেন শুভেন্দু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪৬
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

মালদহের ভূতনির চর ও রতুয়ায় নদী ভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। আজ রাজধানীতে জলসম্পদ মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে বরাদ্দ অর্থ ও রাজ্যের নিজস্ব তহবিল দিয়ে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য।

আজ দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের শেষে তিনি দাবি করেন, পনেরো বছর পরে ওই মন্ত্রকের কোনও বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গেও আলাদা করে দেখা করেন শুভেন্দু। সূত্রের মতে, বৈঠকে নদী ভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ড্রেজিং, ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ ফরাক্কা চুক্তির। ওই চুক্তির ফলে বিহারে জলের ঘাটতি হওয়ায় তার যাতে পুনর্নবীকরণ না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যেই সরব বিহারে বিজেপির শরিক দল জেডিইউ। শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘‘আজকের বৈঠকে ফরাক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি। তা ছাড়া বিষয়টি বিদেশ মন্ত্রক সম্পর্কিত।’’

এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দু ভূতনির চর ও রতুয়ার নদী ভাঙনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে জানান, আইআইটি কানপুর যে পরিকল্পনা ছকে দিয়েছে, সেই মতো এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এই বিষয়ে বিহারের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। তবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে ঝাড়খণ্ড সরকারের এনওসি-ও প্রয়োজন। প্রায় ১৬ কিলোমিটার ড্রেজিংও করতে হবে। এই ছাড়পত্রগুলির জন্য রাজ্য ইতিমধ্যেই জলশক্তি মন্ত্রক ও গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশের কাছে সাহায্য চেয়েছে, জানান শুভেন্দু।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ভবিষ্যতে রাজ্যই রূপায়ণ করবে বলেও কেন্দ্রকে জানিয়েছেন শুভেন্দু। আজ ফরাক্কা ব্যারাজ থেকে নদিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ভাঙন রুখতে কেন্দ্রীয় সাহায্যের জন্যও তদ্বির করেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে ফরাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ, জাতীয় জলপথ কর্তৃপক্ষ ও পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলপথ দফতরের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। যে চুক্তি মতে, ফরাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষের ২০ কিলোমিটার ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার দায়িত্বে ছিল রাজ্যের। শুভেন্দুর দাবি, ‘‘আগের আমলে এর কিছুই কাজ হয়নি। তাই নতুন করে ওই কাজ করতে ৫০০ কোটি টাকা চেয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করা হয়েছে।’’ জলশক্তি মন্ত্রী আশ্বাসও দিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
River Erosion

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy