E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নিহত চিকিৎসকের ব্যাগে আঙুলের ছাপ নেই কেন, প্রশ্নে তদন্তই

সিবিআই সূত্রের দাবি, ঘটনার রাতে সেমিনার রুমে নির্যাতিতা কয়েক জন সহপাঠীর সঙ্গে মোবাইলে অলিম্পিক্স দেখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে মোবাইলে কেন কারও আঙুলের ছাপ মিলল না? সিবিআই সূত্রের দাবি, যে ম্যাটের উপরে নির্যাতিতার দেহ পড়ে ছিল, তারও ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়নি।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৬ ০৬:৫৫

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের তদন্তে এ বার নির্যাতিতার জিনিসপত্রের ফরেন্সিক রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল (সিট)। সূত্রের খবর, সেমিনার রুম থেকে নিহতের ব্যাগ, ল্যাপটপ, মোবাইল ও একটি প্লাস্টিকের জলের বোতল উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে জিনিসপত্রগুলিতে কোনও আঙুলের ছাপ মেলেনি। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট ফরেন্সিক রিপোর্টও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি, আঙুলের ছাপ যে মেলেনি, সে কথা তদন্ত রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের আরও দাবি, নির্যাতিতার একটি ডায়েরিও উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা। তার কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে মৃতদেহের মাথার পাশে রাখা ছিল। অথচ ডায়েরিতেও কোনও আঙুলের ছাপ নেই!

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় সঞ্জয় রায় (ইতিমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত) ছাড়াও আরও অনেকে জড়িত, এই অভিযোগ জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। সেই দাবি মেনেই পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। অনেকেরই প্রশ্ন, নির্যাতিতার জিনিসপত্রে আঙুলের ছাপ না-মেলা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে কি কেউ সযত্নে আঙুলের ছাপ মুছে দিয়েছিল? সে ক্ষেত্রে কি একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল? উল্লেখ্য, ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশের আগে কলকাতা পুলিশের দায়িত্বে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল। তবে কি তদন্তে কোনও বিশেষ হস্তক্ষেপ ছিল?

সিবিআই সূত্রের দাবি, ঘটনার রাতে সেমিনার রুমে নির্যাতিতা কয়েক জন সহপাঠীর সঙ্গে মোবাইলে অলিম্পিক্স দেখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে মোবাইলে কেন কারও আঙুলের ছাপ মিলল না? সিবিআই সূত্রের দাবি, যে ম্যাটের উপরে নির্যাতিতার দেহ পড়ে ছিল, তারও ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়নি। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক বলছেন, ‌“সম্প্রতি ঘটনার রাতে কর্তব্যরত নার্স এবং নির্যাতিতার কয়েক জন সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেমিনার রুমে যাওয়ার আগে নির্যাতিতার নিজস্ব জিনিসপত্র কোথায় রাখা ছিল, তার খোঁজ করা হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি।” তদন্তকারীদের একাংশের মতে, নির্যাতিতা নিজে ওই জিনিসপত্র সেমিনার রুমে নিয়ে গেলে অন্তত তাঁর আঙুলের ছাপ ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, জলের বোতলে থাকা উচিত। কিন্তু তা-ও মেলেনি!

অনেকে অবশ্য প্রশ্ন করছেন, কলকাতা পুলিশের হাত থেকে তদন্ত নেওয়ার পরে সীমা পহুজা-সহ সিবিআইয়ের তৎকালীন অফিসারদের মনে এই প্রশ্ন কেন ওঠেনি? তবে কি তদন্তে গাফিলতি ছিল খোদ সিবিআইয়েরও?

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
RG Kar Medical College And Hospital CBI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy