সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের অন্দরে শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের সংঘাত ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের প্রথম সারির ফিল্ম স্কুলে পড়ুয়াদের উপরে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ বা সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ আর একটি সংগঠন ও তাঁদের অনুগামীদের হামলার ঘটনায় প্রলেপ দেওয়া দূরে থাক উল্টে শিক্ষার্থীদের উপরেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বুধবার এসআরএফটিআইয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা। তার পরেই ছাত্রদের ইউনিয়নের তরফে দাবি, উল্টে পড়ুয়াদেরই ক্ষমা চেয়ে ক্লাসে ফিরতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, আন্দোলনের পথে অনড় থাকলে ফিল্ম স্কুলের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপও করা হবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি, পুলিশের এফআইআর ইত্যাদি পদক্ষেপেও রক্ষাকবচ থাকবে না। এসআরএফটিআইয়ের উপাচার্যকে অবশ্য ফোন করে এ দিন সাড়া মেলেনি।
সূত্রের খবর, পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় এক দশক আগের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়েই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এসআরএফটিআইয়ের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘যা-ই হোক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ারা যাতে দ্রুত ক্লাসে ফেরে সেটা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। এর অন্যথা চলবে না।’’ বাস্তবে কিন্তু পুজোর ছুটির আগে এখন প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদেরই ক্লাস বাকি ছিল। অন্যদের থিয়োরি ক্লাস কার্যত ছিল না। কর্তৃপক্ষের নিদান, ক্লাস না-হলে হস্টেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের থাকার জায়গা খালি করতে হবে। জনৈক ছাত্রের অভিযোগ, ‘‘আমরা হামলার শিকার হলাম। কিন্তু সব দোষ এখন আমাদের দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ক্যাম্পাসে দেওয়ালে লিখে, এঁকে প্রতিবাদেও নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে।’’ গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর পর পর দু’টি গোলমাল এবং বহিরাগতদের হামলা হয় এসআরএফটিআইয়ে। এর মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ এবিজিপি বলে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান ভেস্তে দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের দিকেও আঙুল উঠেছে। অভিযোগ, ওই সংগঠনটির ব্যানার খোলার সময়ে স্বামী বিবেকানন্দ, ‘ভারতমাতার’ ছবিরও অপমান হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের তরফেও অভিযোগ, ক্রমাগত উস্কানি, মারধরের জেরেই ২৭ সেপ্টেম্বর এবিজিপির অনুষ্ঠানে জটিলতা দেখা দেয়। এসআরএফটিআই সূত্রের খবর, আপাতত ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে নমনীয় মনোভাব না-দেখাতে শিক্ষকদের উপরেও চাপ দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।