E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সুরক্ষিত গতি বৃদ্ধিতে পূর্ব রেলের নয়া কবচ

রেল সূত্রের খবর, পূর্ব রেলের আওতায় ২৬০ কিলোমিটার পথে ১২০টি রেল ইঞ্জিনে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৬:৫২

—প্রতীকী চিত্র।

হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ওই পথে দুর্ঘটনা রুখতে কবচ প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণ বসানোর কাজ করছে রেল। এই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে পূর্ব রেল হাওড়া থেকে ধানবাদের কাছে ছোটা আম্বানা স্টেশন পর্যন্ত ২৬০ কিলোমিটার পথে ‘কবচ ৪.০’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে ওই রেলপথে একই লাইনে মুখোমুখি বা পিছন থেকে আসা ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকবে না। পাশাপাশি, ভারী বৃষ্টি বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে গেলে ট্রেনের ইঞ্জিনের কামরায় বসে চালক তাঁর নিকটতম সিগন্যালের অবস্থা আগেই জানতে পারবেন। খালি চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তাই খালি চোখে সিগন্যাল দেখার জন্য গতিও কমাতে হবে না।

রেল সূত্রের খবর, জিপিএস (গ্লোবাল পজ়িশনিং সিস্টেম) এবং আরএফআইডি (রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ডিভাইস) প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওই ব্যবস্থায় ট্রেনের অবস্থান নিখুঁত ভাবে জানা সম্ভব হয়। ওই ব্যবস্থায় ট্রেনের ইঞ্জিনে জিপিএস যন্ত্র বসানোর পাশাপাশি রেল লাইনের মাঝে এবং পাশে আরএফআইডি যন্ত্র বসানো থাকে। ওই দুই যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য একত্রে নির্দিষ্ট লাইনে যতগুলি ট্রেন ছোটে তার অবস্থান নির্ভুল ভাবে জানাতে পারে। একাধিক ট্রেনের অবস্থান এবং পারস্পরিক দূরত্ব নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে কন্ট্রোল রুম থেকে ট্রেনের চলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কোথাও বিধি ভেঙে দু’টি ট্রেন কাছাকাছি চলে এলে ওই ব্যবস্থায় আপনা থেকেই ব্রেক কার্যকর হয়ে ট্রেন থেমে যাবে।

রেল সূত্রের খবর, পূর্ব রেলের আওতায় ২৬০ কিলোমিটার পথে ওই ব্যবস্থা চালু করার অঙ্গ হিসেবে ১২০টি রেল ইঞ্জিনে ওই বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে। রেলকর্তাদের বক্তব্য, ট্রেনের অবস্থান যন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে জানা সম্ভব হওয়ায় ওই ব্যবস্থায় অহরহ ট্রেনের গতি পরিবর্তনের পরিবর্তে একটি স্থির এবং নিরাপদ গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়। নতুন ব্যবস্থায় ট্রেন লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে আসার আগেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে ট্রেনের বাঁশি বাজে। ওই ব্যবস্থায় চলমান ট্রেনে কোনও সমস্যা দেখা দিলে আশপাশের ট্রেনকে সতর্ক করার জন্য স্বয়ংক্রিয় বার্তা (এসওএস) পাঠানোর ব্যবস্থাও আছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর ওই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করছিলেন। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, “নতুন ব্যবস্থায় সংঘর্ষের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। ওই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ট্রেন চলাচল উন্নত করবে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Railways Eastern Railways

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy