শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন বাধ্যতামূলক করার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি, ইএসআই-এর সুবিধা তাতে নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। এতে বেশ কয়েক লক্ষ শ্রমিকের সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ, শ্রমসচিব রচনা ভগত, বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার এবং অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার কিংশুক সিংহ বৈঠক করেন পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ইএসআই কর্তৃপক্ষ, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদেরও সেই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। এ দিন বৈঠকে যে চুক্তি হয়েছে তাতে, স্পঞ্জ আয়রন, ইন্ডাকশন ফার্নেস, রোলিং মিল ইত্যাদি ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি প্রতি মাসে দু’হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে। সমান্তরালে নিশ্চিত করা হবে পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ইএসআই-এর সুবিধাও। এতে প্রায় দেড় লক্ষ শ্রমিকের সুবিধা হবে। আগামী দিনে এ রাজ্যে ‘ওয়েজ কোড’ সংশোধনের বিষয়টিও কার্যকর করবে সরকার।
এই চুক্তি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলি ছাড়াও কার্যকর হবে চা-বাগান, চটকল এবং হিমঘর শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। পরে হোসিয়ারি (এই ক্ষেত্রেও বহু শ্রমিক যুক্ত থাকেন)-সহ আরও অনেকগুলি ক্ষেত্রে তার পরিধি বাড়ানো হবে।
আধিকারিকদের একাংশের মতে, শ্রম আইন থাকলেও, তা বাধ্যতামূলক ভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে নজরদারির বেশ অভাব ছিল। ফলে অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ এই সব সুবিধা শ্রমিকদের দিতেন না। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের পথ মসৃণ ছিল না বলেও নজরদারি নড়বড়ে ছিল। এখন থেকে নিয়মিত নজরদারি হবে। যেখানে সমস্যা থাকবে, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তা মেটাবে শ্রম দফতর।