রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিলেন বিজেপি মনোনীত তিন প্রার্থী। সোমবার সকালে বিধানসভায় যান সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব। সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাঁরা। তিন প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও।
বিজেপির তিন প্রার্থীই কয়েক দিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। জোড়াফুল শিবিরে ভাঙনপর্বের মাঝে তাঁরা সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তৃণমূলও ছাড়েন তাঁরা। এর পরে গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে পদ্মশিবিরে যোগ দেন তৃণমূলত্যাগী তিন প্রাক্তন সাংসদ। তাঁদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন শমীক। তাঁদের যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিজেপি। প্রার্থী করা হয় তৃণমূলত্যাগী তিন প্রাক্তন সাংসদকে।
এ বার সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তিন বিজেপি প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। তিন তৃণমূলত্যাগী প্রাক্তন সাংসদের বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাতারাতি রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যাওয়া ঘিরে প্রশ্নও ওঠে বিভিন্ন মহলে। কারণ, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই শাসকদলের রাজ্য সভাপতি শমীক জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ থাকবে। কোনও নেতাকে দলে নেওয়া হবে না। এ অবস্থায় তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদের বিজেপিতে যোগদান একটি ‘ব্যতিক্রমী ঘটনা’ বলেও দাবি করেন শমীক।
সোমবার সেই ‘ব্যতিক্রমী’ ত্রয়ীর মনোনয়ন জমা পর্বের সঙ্গী রইলেন শুভেন্দু এবং শমীকও। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন যে এই তিন জনের সঙ্গেই রয়েছে, সেই বার্তাও দিল পদ্মশিবির।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলে ভাঙনপর্বের মাঝে রাজ্যসভার সাংসদপদে প্রথম ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর। গত ৮ জুন থেকে ওই আসনটি ফাঁকা। তার পরে ১০ জুন সুস্মিতা এবং ১১ জুন প্রকাশ চিকও রাজ্যসভার সাংসদপদ ছাড়েন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওই তিন আসনে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচন হবে। তার জন্য মনোনয়ন জমার শেষ দিন ১৪ জুলাই। মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হবে ১৫ তারিখ। মনোয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ জুলাই। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ২০৮টি আসন। তৃণমূল ৮০টি। কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীরের এজেইউপি পেয়েছে দু’টি করে আসন। সিপিএম এবং আইএসএফ একটি করে আসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে বিজেপির আসনসংখ্যা আপাতত ২০৭। অন্য দিকে, হুমায়ুনও নওদা রেখে রেজিনগর ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরের আসন আপাতত ৮৫। আবার তৃণমূলও বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। এ অবস্থায় বিধানসভার বর্তমান সমীকরণে তিনটি আসনেই জয় নিশ্চিত বিজেপির।