জঙ্গলমহলে উন্নয়নের স্বার্থে বন্দুক ধরেছিলেন বলে দাবি। উন্নয়নের প্রশ্নেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপরে আস্থা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রী। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের সভাঘরে বুধবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের এডিজি (পশ্চিমাঞ্চল) আনন্দ কুমার ও বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ঝাড়খণ্ডের ঝুঁজকা গ্রামের বাসিন্দা রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন ওরফে মহাদেব, তাঁর স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের নয়নতারা সাহু ওরফে মিতা ওরফে ঝুমা এবং বেলপাহাড়ির জবা মাহাতো ওরফে বুলু ওরফে গৌরী।
এডিজি বলেন, ‘‘শচীনকে ধরতে ১৫ লক্ষ, মিতাকে ধরতে ১০ লক্ষ ও জবার জন্য এক লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ওঁদের আত্মসমর্পণ করানোয় বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারেরবড় ভূমিকা রয়েছে।’’ পুলিশ জানায়, দু’টি ইনস্যাস, একটি একে-৪৭ রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজ়িন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ-সহ তিন জন এ দিন আত্মসমর্পণ করেন। আগ্নেয়াস্ত্রগুলি সবই সরকারি। অতীতে লুট হয়েছিল।
তিন জন ২০১৪ পর্যন্ত জঙ্গলমহলে সক্রিয় ছিলেন। পরে শচীন বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার আঞ্চলিক কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি, ২০১৯-২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। জবা ও মিতা ছিলেন জ়োনাল কমিটির সদস্য। শচীন বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে সমাজের মূল স্রোতে ফিরছি।’’ মিতা বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের সময়ে যিনি নেতৃত্বে ছিলেন, সেই শুভেন্দু অধিকারী এখন মুখ্যমন্ত্রী। উনি উন্নয়ন করবেন, পূর্ণ আস্থা আছে।’’