Advertisement
E-Paper

কুণালদের বিক্ষোভে ঋতব্রতপন্থী তিন বিধায়ক! মমতার ছবি ছাড়া ৫০০ ভোট পেতাম না, ‘হামলার’ প্রতিবাদ করে বললেন তৌসিফুর

মমতার উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিধানসভা চত্বরে মিছিল করেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা। সেই কর্মসূচিতে শামিল হন ঋতব্রত শিবিরে থাকা তিন তৃণমূল বিধায়ক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ অগস্ট ২০২৬ ১৭:২৬
বিধানসভায় কালীঘাট তৃণমূলের বিক্ষোভে ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ক।

বিধানসভায় কালীঘাট তৃণমূলের বিক্ষোভে ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ক। —নিজস্ব চিত্র।

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখাল কালীঘাট তৃণমূল। সেই বিক্ষোভে শামিল হলেন ঋতব্রত শিবিরের তিন তৃণমূল বিধায়কও। অন্য শিবিরে থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগ দিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তাঁরা। এই তিন জন হলেন মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা, বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার।

মমতার উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিধানসভা চত্বরে মিছিল করেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবর আলি, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, অসীমা পাত্রেরা। দোষীদের গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়। কুণাল বলেন, “যারা হামলা করেছে, তাদের সরকার মদত দিচ্ছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করত হবে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো যাবে না।” সেই সময়েই কালীঘাট তৃণমূলের বিক্ষোভে দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরে থাকা ওই তিন বিধায়ককে।

কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে তৌসিফুর বলেন, “যেখানে দিদি, সেখানে আমি। মমতাদির ছবি ছাড়া ৫০০ ভোটও পেতাম না। আমাদের ঋতব্রত শিবিরের তরফে বলা হয়েছিল, মমতাদি চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু আজ হবে, কাল হবে করে আর হয়নি।” দলের প্রতীকে নির্বাচিত প্রত্যেক বিধায়কের প্রতিবাদে শামিল হওয়া উচিত বলে জানান ঋতব্রত শিবিরের আরও এক বিধায়ক বিভাস। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রীর উপর আঘাত হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। মমতার প্রতীকে জিতেছি। তৃণমূলের ৮০ জনেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত।” প্রায় একই সুরে খালেক মোল্লা বলেন, “নেত্রীর গাড়িতে আঘাতের প্রতিবাদ করছি। আমি ঋতব্রতপন্থী, কিন্তু মমতার উপর হামলার প্রতিবাদ করছি।”

কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওট পুলিশি হেফাজতে মারা যান। রবিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় গিয়েছিলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তৃণমূলনেত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা-ছেঁড়া চটি ছোড়া হয়। দেওয়া হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। বিক্ষোভের মুখে পড়ে মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’

বিজেপির তরফে অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করা হয় যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতে কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে।” কটাক্ষের সুরে শুভেন্দুও বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে।”

মমতার উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ দেখায় কালীঘাট তৃণমূল। হাজরায় তাদের মিছিল আটকায় পুলিশ। ৩০ জন গ্রেফতার করে কালীঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে বিজেপির বর্বর আক্রমণের প্রতিবাদে আন্দোলন চলবে।”

এ প্রসঙ্গে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের দাবি, বিভাস বা তৌসিকের দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না। তবে আব্দুল তাঁদের সঙ্গেই আছেন বলেও দাবি করেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যাটা ৬৫-র কম নয়। তার নীচে নামার কোনও সুযোগ নেই। স্পিকার যে দিন চাইবেন সে দিন ৬৫ জন সশরীরে হাজির হয়ে যাবেন।’’

Ritabrata Banerjee TMC Mamata Banerjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy