Advertisement
E-Paper

শিবির বদলের জল্পনা এ বার মদনকে ঘিরেও! ঋতব্রত-পক্ষের নেতা সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বুধবারেই

মঙ্গলবার রাতে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে যান কালীঘাট তৃণমূলের নেতা মদন মিত্র। সেখানে তিনি আধ ঘণ্টারও বেশি সময় থাকলেও সন্দীপনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। তবে সন্দীপনের পিতা, প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:১০
Tmc MLA Madan Mitra may join the fraction group of tmc

(বাঁ দিকে) মদন মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কামারহাটির প্রবীণ বিধায়ক মদন মিত্র কি এ বার শিবির বদল করবেন? মঙ্গলবার রাত থেকেই এই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরে। মঙ্গলবার রাতে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে যান মদন। সেখানে তিনি আধ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলেও সন্দীপনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। তবে সন্দীপনের পিতা, প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। কী বিষয় নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে মদন বা স্বর্ণকমল— কেউই মুখ খুলতে চাননি।

মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফিরে সন্দীপন জানতে পারেন, মদন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এর পরই তিনি কামারহাটির বিধায়ককে ফোন করেন। কয়েক মিনিট তাঁদের মধ্যে কথাবার্তাও হয়। মদন জানান, পুত্রসম সন্দীপনের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। বিধানসভা সূত্রে খবর, বুধবার মদন ও সন্দীপন সাক্ষাৎ হওয়ার কথা। এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন এন্টালির বিধায়ক নিজেও। তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার রাতেই মদন মিত্রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করব।’’ তবে মদন কেন সাক্ষাৎ করতে চাইছেন, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সন্দীপন।

দু’পক্ষের এই নীরবতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের দুই পুত্র ও তাঁর স্ত্রীকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এর পরেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে মদন কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।

তবে মদনকে তাঁদের শিবিরে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিদ্রোহী তৃণমূলের অন্যতম নেতা আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘যে কেউ চাইলেই আমাদের দলে যোগ দিতে পারবেন না। সকলে মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেউ যদি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে আমাদের দলে আসতে চান, তাঁকে নেওয়া হবে না। কিন্তু কেউ যদি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থে এবং মতাদর্শগত কারণে আমাদের সঙ্গে আসতে চান, তা হলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মদন মিত্রের যোগদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’’

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর পরিষদীয় দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক যোগ দেন। অন্য দিকে, হাতেগোনা কয়েক জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থেকে যান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মদন। ইতিমধ্যেই তাঁকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের হকার সংগঠনের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে বেশ কয়েক জন নেতা, যাঁদের মমতা দলীয় বিভিন্ন পদে বসিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ঋতব্রত শিবিরে গিয়ে যোগ দিয়েছেন। এই তালিকায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সায়নী ঘোষের নাম উল্লেখযোগ্য।

মঙ্গলবার থেকে ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘যারা পরিবারকে নোটিস পাঠিয়ে গান পয়েন্টে রেখে কারও শিবির বদলানোর চেষ্টা করেন, তাদের সেই ঘৃণ্য রাজনীতি মানুষ বিচার করবেন। মদনদার শরীর যদি ওই দিকে যায় তা হলেও তাঁর মনটা থাকবে কালীঘাটে। মমতদির সঙ্গে।’’

Madan Mitra ED

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy