আবার সমাগত বাঙালির অলৌকিক ভোর। শহরে গ্রামে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, প্রাক্-পুজো যানজট, মণ্ডপসাজে রাজপথ দখলদারির বিশৃঙ্খলা— এই সব কিছুর ক্লেদ মুছে দেওয়া সকাল বঙ্গজীবনের দুয়ারে হাজির। পিতৃপক্ষের শেষ লগ্নে মহালয়ার দিনেই চিরায়ত শারদোৎসবের আগমনী।
প্রবীণ পুরোহিতেরা জানাচ্ছেন, আজ, শনিবার সূর্যোদয় থেকেই অমাবস্যার তিথি পড়ছে। পিতৃপুরুষের তর্পণের আচার সম্পন্ন করার অঢেল সময় মিলবে। আবহবিদদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়সড় বৃষ্টি ব্যাঘাতের আশঙ্কা এ বার মহালয়ায় নেই। আর গত কয়েক প্রজন্মের মতো এখনও আকাশবাণী কলকাতার সেই ধ্রুপদী অনুষ্ঠানেই অটুট এই সকালটির মহিমা। সাবেক ঢাউস রেডিয়োর যুগ থেকে স্মার্টফোনের ভিতরে সেঁধোন অ্যাপের যুগেও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কণ্ঠে মথিত ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’।
এ দিনও ভোর ৪টেয় তিন বার শঙ্খধ্বনির মধ্যে অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বিবিধ ভারতী ছাড়া আকাশবাণী কলকাতার ছ’টি চ্যানেল— এফএম গোল্ড, রেনবো, গীতাঞ্জলি, মৈত্রী, সঞ্চয়িতা, ডিটিএইচ বাংলা পরিষেবায়। নিউজ়অনএয়ার অ্যাপেও অনুষ্ঠানটি শোনা যাবে। সাম্প্রতিক কালে আকাশবাণী ঘুরেফিরে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’র পুরনো নানা রেকর্ডিং বাজিয়েছে। তবে গত বছরের মতো এ বারও ১৯৭২ সালে সঙ্কলিত ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’র সব থেকে পরিচিত সংস্করণটি শোনা যাবে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন আকাশবাণী কলকাতার হেড অব প্রোগ্রামস মিতালি দত্ত।