নির্বাচন কমিশন ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে কাকে বেছে নেবে, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দলত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিশ সাংসদের ভবিষ্যৎ। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগেই ছবি স্পষ্ট হবে। এ কথা জানিয়ে রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, ইতিমধ্যে দল আরও ভারী হওয়ার কথা এনসিপিআই-এর। তৃণমূল থেকে আরও দু’জন লোকসভা সাংসদের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পাকা হয়ে গিয়েছে। ইঙ্গিত, এ দু’জনই আগে বিজেপি-তে ছিলেন।
সূত্রের খবর, গত সন্ধ্যায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়রা। আলোচনা হয়েছে নির্বাচনী ক্ষেত্রের উন্নয়নের কাজ এবং চলতি পরিস্থিতি নিয়ে। সূত্রের খবর, এই কুড়ি সাংসদের অধিকাংশই নামগোত্রহীন এনসিপিআই-তে থাকতে চাইছেন না। চাইছেন পদ্মের মঞ্চ। ব্যতিক্রম আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের হজ কমিটি এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হতে পারে খলিলুর এবং আবু তাহেরকে। এনসিপিআই-এর সিংহভাগ সাংসদের বক্তব্য, বিজেপি রাজ্যেও শাসক দল। ফলে বিজেপি-তে সরাসরি যোগ দিলে আগামী আড়াই বছর নির্বাচনী কেন্দ্রে উন্নয়নের কাজ করতে সুবিধা হবে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে মমতাপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বসছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার কথা ‘আসল’ তৃণমূল কে। কোন অংশ পাবে প্রতীক চিহ্ন, নাম। এনসিপিআই আশা করছে, তৃণমূলের নাম, প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের দিকেই যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকের নয়। সূত্রের মতে, ঋতব্রতরা দলের দখল পেয়ে গেলে এনসিপিআই-এর বিরুদ্ধে করা দলীয় মামলা তুলে নেবেন এবং তখন এই ২০ জনের সংসদীয় দলের স্বীকৃতি পেতে সমস্যা হবে না। দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত অভিযোগই তখন থাকবে না। আবার ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন (সংখ্যালঘু ৩ সাংসদ ব্যতীত) বিজেপি-তেও চলে যেতে পারেন, যদি বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের জন্য দরজা খুলে দেন।
এনসিপিআই-এর দাবি, তৃণমূলের প্রতীক ঋতব্রত শিবিরের হাতে চলে যেতে পারে, আগাম এই অনুমান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিকল্প প্রতীক হিসেবে সূর্যমুখী ফুল এঁকে রেখেছেন। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এর সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। তবে তৃণমূলের আশঙ্কা, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের বিধানসভা কেন্দ্র দু’টিতে উপনির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনও পক্ষকেই তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন ব্যবহার করতে দেবে না। সে ক্ষেত্রে দিতে হবে নতুন প্রতীক। তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য, এই দু’টি আসনে তাদের জয়ের সম্ভাবনা নেই, ফলে প্রতীক ব্যবহার না করে লড়লে বাড়তি ক্ষতির ব্যাপার নেই। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে আজ বলেন, ‘‘আমাদের আসল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন তা কেড়ে নিতে পারবে না।’’