তারাতলার নির্মাণ বিপর্যয়ের পর রাজ্যে আবাসন শিল্পে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার আবহ কাটাতে আবাসন নির্মাণকারী সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকার এক দিকে যেমন বৈধ নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষতি করতে চায় না, অন্য দিকে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে আপসও করা হবে না। তিনি বলেন, ‘‘১৫ অগস্ট পর্যন্ত সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। এর পর যে সমস্ত প্রকল্প নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলিকে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমানে প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পে মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট, স্ট্রাকচারাল নিরাপত্তা এবং অনুমোদিত নকশা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলার মাটি পলিময় ও তুলনামূলক ভাবে নরম হওয়ায় নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি। চারতলার অনুমোদন নিয়ে সাততলা তৈরি করলে সেই ভবনের ভিতও সেই উচ্চতার উপযোগী হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই নিয়মভঙ্গ করে তৈরি কোনও বহুতলকে সরকার ছাড় দেবে না।’’
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই ১৯২টি নির্মাণ প্রকল্পকে ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি ২৭টি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও পুরমন্ত্রী জানিয়েছেন। বৈঠকে আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিও উঠে আসে। ক্রেডাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক শ্রমিক, যাঁদের মধ্যে বহু পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছেন, কাজ হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছেন। বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বৈধ নির্মাণ দ্রুত শুরু করা গেলে আবাসন শিল্প যেমন গতি পাবে, তেমনই শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও বজায় থাকবে।
এ দিকে পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে সরকার। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই পিডব্লিউডি-র সচিব অন্তরা আচার্যের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দিনে স্বীকৃত সংস্থাকে যুক্ত করে নির্মাণের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে নজরদারির আওতায় আনা হবে।’’ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং স্থানীয় থানার সমন্বিত পর্যবেক্ষণে প্রতিটি নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে গোপনে বা নিয়ম ভেঙে বহুতল নির্মাণের সুযোগ আর থাকবে না বলেই সরকারের দাবি। একই সঙ্গে বৈধ নির্মাণ ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভবিষ্যতের নির্মাণ নীতি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।