রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বার দুর্গাপুজো আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উপাচার্য অর্ণব সেনের বক্তব্য, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের বড় উৎসব পালন করা হবে। কোনও উৎসবই সরকারি টাকায় হবে না, স্পনসরদের অনুদানের টাকা ও চাঁদা তুলে পালন করা হবে। তবে পঠনপাঠন ও একাধিক সমস্যা মেটানোর বদলে উত্তর দিনাজপুরের এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন পুজো বা উৎসবের দিকে নজর দিচ্ছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছেঅন্দরে-বাহিরে।
উপাচার্যের দাবি, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপুজো ছাড়াও সরস্বতী পুজো, বাংলা নববর্ষ, বিশ্বকর্মা পুজো, ইদ, বড়দিনের মতো সব ধর্মের পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হবে। এ সব আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ‘উৎসব উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন না। বলেন, “স্পনসরদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ অনুদান ও চাঁদা তুলে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে।”
দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যেই উপাচার্যকে পৃষ্ঠপোষক পদে রেখে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একটি কমিটি তৈরি হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক দিগন্ত বিশ্বাস ও গৌতম সরকারকে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-আধিকারিকদের একাংশের দাবি, গত প্রায় দু’বছর কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠক না হওয়ায় নানা উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ, প্রায় আট বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত শংসাপত্র দেওয়া যাচ্ছে না, ন’বছর আগে কাজ শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মীয়মাণ ১০ তলা ভবন এখনও চালু হয়নি এবং শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর অভাবে সমস্যা বাড়ছে। এক আধিকারিক বলেন, “পড়ুয়া তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এ সব সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার নাদিয়ে দুর্গাপুজো বা উৎসব আয়োজনের যুক্তি কী!”
উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের দাবি, “বিশ্ববিদ্যালয় দুর্গাপুজো করবে প্রথম শুনলাম। রাজ্যে পালা বদল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজেপিপন্থীরা কৌশলে সরকার পক্ষকে খুশি করার চেষ্টা করছেন কি না, সেটাই প্রশ্ন।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনওয়ারুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকাঠামোগত সমস্যা না মিটিয়ে কেন কর্তৃপক্ষ পুজো-উৎসবের দিকে ঝুঁকছেন, ধন্দ থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উৎসব উদ্যাপন কমিটি’র সভাপতি তথা স্নাতকোত্তর কাউন্সিলের সচিব-শিক্ষক দিগন্ত বিশ্বাসের দাবি, উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাইচন্দ্র কবিরাজ বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেদলের কোনও সম্পর্ক নেই। সেখানে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই।”