কলকাতা ও হাওড়ার পরে আরও দু’টি পুর-নিগমের ওয়ার্ড-সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শিলিগুড়ির ওয়ার্ড-সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৩ এবং দুর্গাপুরে ওয়ার্ড-সংখ্যা ৪৩ থেকে ৫৩টি করার কথা জানানো হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে। ওয়ার্ড বৃদ্ধি বা পুনর্বিন্যাসের তালিকায় এখনও বাকি থাকল বিধাননগর, আসানসোল ও চন্দননগর পুর-নিগম। কলকাতা ও হাওড়ার মতোই শিলিগুড়ি এবং দুর্গাপুরেও জনশুনানি-সহ পুনর্বিন্যাসের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কবে কী ভাবে হবে, প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
আইন অনুযায়ী, পুর-নিগম ও পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। তবে সীমানা পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। চার পুর-নিগমের ক্ষেত্রেই কমিশনের ভূমিকা এখনও কেন দেখা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নে সরব বিরোধীরা। কমিশন সূত্রে অবশ্য ইঙ্গিত, সেপ্টেম্বর মাসেই এই প্রক্রিয়া হতে পারে।
আগের কোন কোন ওয়ার্ড ভেঙে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে, শিলিগুড়ি পুরসভার তরফে সেই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে শুনানি, সর্বদল বৈঠকের মতো কতগুলি সাধারণ বিষয় রয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষায় সেগুলি করা দরকার। প্রশাসক বোর্ড কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু আধিকারিকদের দিয়ে এই কাজ করানোর অর্থ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা করা হচ্ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এ কাজ করার কথা। পুর দফতর সমন্বয়ে থাকবে।’’ শিলিগুড়ির সদ্য প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবেরও অভিযোগ, ‘‘পুনর্বিন্যাস কোথায় কী ভাবে হল, কিছুই স্পষ্ট নয়। সর্বদল বৈঠক, জনশুনানি করে কমিশনের তরফে তা করার কথা। এ সব তো কিছুই হয়নি!’’ শিলিগুড়ি পুরসভার কমিশনার বীরবিক্রম রাই বলেছেন, এই বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। দুর্গাপুরেও প্রশাসন সূত্রে খবর, সীমানা পুনর্বিন্যাসের জন্য খসড়া প্রকাশের পরে বাসিন্দাদের পরামর্শ ও আপত্তি শোনা হবে।
পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে কেন দাবি ও আপত্তি শোনা হল না, সেই প্রশ্ন উঠেছে কলকাতাতেও। সূত্রের খবর, কলকাতা জেলা সিপিএমের তরফে কয়েকশো দাবি ও আপত্তি জমা পড়ায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কলকাতার পুর-কমিশনারকে দাবিপত্র পাঠিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বুধবার প্রশ্ন তুলেছেন, পুরসভা প্রতি ওয়ার্ডে ১৬ হাজার ভোটার (কম-বেশি আরও ২৫০০) রাখার কথা বললেও খসড়ায় ৩২টির বেশি ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৫০০-র কম এবং ১২টি ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৫০০-র বেশি, এমনকি ৩০ হাজারের বেশি ভোটারও রাখা হয়েছে। কোনও ওয়ার্ডের জনঘনত্ব প্রকাশ করা হয়নি। বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একই রকম দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ‘‘বিজেপির সুবিধা দেখে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে!’’
এমতাবস্থায় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ পুর-নিগম আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওয়ার্ডের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের। রাজ্য নির্বাচন কমিশন যখন পুর-নিগমগুলির ওর্য়াড পুনর্বিন্যাস করবে, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা রাজনৈতিক দলগুলির বৈঠক ডাকবেন।’’ আর উত্তর কলকাতায় বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলছেন, ‘‘আমাদের কাছে যা যা নির্দেশ আছে, সেই ভাবে আমরা কাজ করছি। প্রশাসন যে সময় দেবে, আমরা সেই সময়ের মধ্যেই কাজ করব। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য একই নিয়ম থাকবে।’’