Advertisement
E-Paper

সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে দাবি জানাতে চালু ওয়েবসাইট, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জানানো যাবে মতামত

কমিশন শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া মেমোরান্ডাম ও পরামর্শই বিবেচনা করবে। অর্থাৎ কাগজে জমা দেওয়া মেমোরান্ডাম, হার্ড কপি, পিডিএফ কিংবা ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনও বক্তব্য কমিশন গ্রহণ বা বিবেচনা করবে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২৬
Website launched for government employees to submit demands and suggestions on 7th Pay Commission

—প্রতীকী ছবি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। সপ্তম বেতন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি, বক্তব্য, মতামত এবং বিভিন্ন প্রস্তাব জানানোর জন্য সরকারি ওয়েবসাইট চালু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কমিশনের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মেমোরান্ডাম ও সাজেশন জমা দেওয়ার মডিউল কার্যকর হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবে সংগঠন, সংস্থা এবং দফতর। একই সঙ্গে কোনও কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও মতামত জানাতে পারবেন।

রাজ্য সরকারের সপ্তম পে কমিশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রচার, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মেমোরান্ডাম গ্রহণ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ-সহ একাধিক কাজের জন্য একটি পৃথক ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশনের ওয়েবসাইটে মেমোরান্ডাম ও পরামর্শ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দিষ্ট মডিউল ব্যবহার করে তাঁদের বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থ দফতরের জারি করা রেজ়োলিউশনের অ্যানেক্সারে অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলি এই মডিউলের মাধ্যমে তাদের মতামত জানাতে পারবে। মূলত বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুবিধা এবং কর্মীদের পরিষেবা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংগঠন বা সংস্থাগুলি নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারবে। শুধু সংগঠন বা সংস্থাই নয়, কোনও কর্মী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নিজের পরামর্শ সরাসরি কমিশনের কাছে জমা দিতে পারবেন।

কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মেমোরান্ডাম বা পরামর্শ জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ অক্টোবর ২০২৬। ওই দিন পর্যন্ত অনলাইন মডিউলটি খোলা থাকবে। ফলে বিভিন্ন সরকারি কর্মী সংগঠন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিজেদের দাবি ও প্রস্তাব জমা দিতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কমিশন শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া মেমোরান্ডাম ও পরামর্শই বিবেচনা করবে। অর্থাৎ কাগজে জমা দেওয়া মেমোরান্ডাম, হার্ড কপি, পিডিএফ কিংবা ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনও বক্তব্য কমিশন গ্রহণ বা বিবেচনা করবে না। ফলে দাবিদাওয়া জানাতে ইচ্ছুকদের অনলাইন মডিউল ব্যবহার করেই আবেদন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২২ জুলাই ২০২৬ রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের রেজ়োলিউশনের মাধ্যমে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এর পর রাজ্য সরকারের তরফে সপ্তম পে কমিশন গঠন করে তার কাজ শুরু করা হয়। কমিশনের কার্যপ্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এ বার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের মতামত সংগ্রহের জন্য ওয়েবসাইটটি চালু করা হল। এর ফলে বেতন কাঠামো, ভাতা, পদোন্নতি এবং অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব সরাসরি কমিশনের কাছে পৌঁছোবে। এই ওয়েবসাইট চালুর ফলে কমিশনের সামনে বিভিন্ন পক্ষের মতামত পৌঁছোনোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইনে বক্তব্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় পৃথক ভাবে নথি পাঠানো বা ই-মেলের উপর নির্ভর করার প্রয়োজন থাকবে না। নির্দিষ্ট মডিউলের মাধ্যমে তথ্য ও প্রস্তাব জমা হওয়ায় কমিশনের পক্ষে সেগুলি এক জায়গায় সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করাও সহজ হবে।

কর্মী সংগঠনগুলির পাশাপাশি কর্মীদের ব্যক্তিগত মতামত গ্রহণের সুযোগ থাকায় সপ্তম বেতন কমিশনের সামনে বিভিন্ন স্তরের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের প্রত্যাশা এবং সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হল। বিশেষত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের আগে মাঠপর্যায়ের মতামত কমিশনের কাজকে আরও তথ্যভিত্তিক করতে পারে। এই কারণে সময়সীমার মধ্যে মতামত জমা দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে কর্মচারী সংগঠনেরও মতামত জানতে ইচ্ছুক। তাই আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সবাইকে ব্যক্তিগত ভাবেও প্রস্তাবের কথা জানাতে বলা হয়েছে। ফলে এই পোর্টালে সবকিছু নথিভুক্ত হয়ে গেলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশন সংক্রান্ত মনোভাবের বিষয়টি সরকার সহজেই জানতে পারবে। এ বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকার যখন সপ্তম বেতন কমিশনের নোটিফিকেশন দিয়েছিল, তখনই বলেছিল একটা ওয়েবসাইট খুলবে, যার মাধ্যমে সংগঠন, সংস্থা বা দফতরগুলি নিজেদের বক্তব্য বা দাবিদাওয়া জানাতে পারবে। সেই ওয়েবসাইট খুলতে একটু দেরি হল। দেরিতে হলেও কর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এই ভেবে যে, আমরা আমাদের নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে পারব এবং সময়মতো কর্তৃপক্ষর সঙ্গে আলোচনাও করতে পারব।’’

7th Pay Commission State Government Employees

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy