রাজ্যের ভাবমূর্তিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে পূর্বতন সরকারের শিল্পকে আর্থিক উৎসাহ (ইনসেনটিভ) দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত— অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে দিন এ কথা বললেন, সে দিনই দুই পড়শি রাজ্য বিহার এবং অসম নতুন লগ্নি পেল। বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে কারণ: এক দিকে, পেপসিকো পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশির ভাগ আলু কিনলেও অসমের নলবাড়িতে ৭৭৮ কোটি টাকায় নতুন চিপস কারখানা গড়ছে। বার্তা, ৩-৪ বছরের মধ্যে বাংলায় লগ্নির পরিকল্পনা নেই। অন্য দিকে, কলকাতায় কর্পোরেট দফতর থাকা টাফকন স্টিল জানিয়েছে, ছ’বছরে ১০,৫০০ কোটি টাকা লগ্নি করবে তারা। বিহার এবং নাগপুরে গড়বে ইস্পাত তৈরির দু’টি কারখানা। তবে তাদেরও লগ্নির তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ নেই। সংস্থার দাবি, রাজ্যের নতুন জমি ও শিল্পনীতি দেখার পরে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চিন্তন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে স্বপন শিল্পে বিহার, ওড়িশা, অসমের এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ তুলে বলেন, “৬০-৭০ সাল পর্যন্ত ভারতের শিল্পে এক নম্বরে ছিল বাংলা। তারপর মুখ থুবড়ে পড়েছে। পূর্বের বাকি রাজ্যগুলি এগিয়ে গিয়েছে।” তাঁর আক্ষেপ, “আগের সরকার শিল্পপতিদের ডেকে এনে ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা বলেও সেই সুবিধা কেড়ে নিয়েছে। এই ‘পিছনের দরজা দিয়ে আইন বদলানো’ ব্যাপারটা বাংলার বদনাম করেছে। যা সিঙ্গুরের থেকেও সম্ভবত খারাপ প্রভাব ফেলেছে।”
পশ্চিমবঙ্গেও কারখানা খুলতে আগ্রহী জানিয়ে এ দিনই টাফকনের ডিরেক্টর সূরজ গুপ্তর দাবি, ‘‘শিল্পের জন্য জমি এবং উৎসাহ দান সংক্রান্ত নতুন কী প্রকল্প হয়, তা দেখে এখানে লগ্নির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’’
পেপসিকো ইন্ডিয়ার সিইও জাগরুত কোটেচা বলেছেন, ‘‘২০৩০-এর মধ্যে পেপসিকো দেশে ৫৭০০ কোটি টাকা লগ্নি করবে। তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, অসমে তিনটি কারখানা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের উৎপাদন কেন্দ্র আছে হাওড়ার সাঁকরাইলে। আপাতত তার বাইরে রাজ্যে নতুন লগ্নির পরিকল্পনা নেই।’’
সহ প্রতিবেদন: প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী