E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

জঙ্গি দমনে জোর দিতে তৈরি আদর্শ কার্যপদ্ধতি

বহু বছর ধরেই সাবসিডিয়ারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টারের (এস-ম্যাক) মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় বৈঠক হয়।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৭
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

আমেরিকান সেন্টারের মতো জঙ্গি হানা দেখেছিল রাজ্য। বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পরে রাজ্যের নানা প্রান্তে গজিয়ে ওঠা জঙ্গিদের আঁতুড়ঘরের কথাও জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। প্রশাসনের খবর, অতীতের সে সব ঘটনার কথা মাথায় রেখেই জঙ্গি দমনের আদর্শ কার্যপদ্ধতি (এসওপি) তৈরি করেছে রাজ্য পুলিশ। বোমা বিস্ফোরণ বা জঙ্গি হামলা হলে কী করতে হবে, তা ওই এসওপি-তে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আইবি, এনআইএ, সেনা-গোয়েন্দা, বিএসএফের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গেও সমন্বয় দৃঢ় করতে বলা হয়েছে। রাজ্যের সব জেলা পুলিশকে এই এসওপি পাঠিয়ে দিয়েছে নবান্ন।

এ রাজ্যে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকা থাকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের। ভূমিকা থাকে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ, রাজ্য আইবি-রও। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, রাজ্যের নানা শাখার মধ্যেও সমন্বয় দৃঢ় করতে বলা হয়েছে। তবে এ রাজ্যের তরফে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাজ্য এসটিএফেরই থাকবে।

সূত্রের খবর, বহু বছর ধরেই সাবসিডিয়ারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টারের (এস-ম্যাক) মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় বৈঠক হয়। যদিও গত কয়েক বছর সেই বৈঠকে রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে তেমন গুরুতর তথ্য দেওয়া হত না বলেও পুলিশের একাংশের অভিযোগ। প্রশাসনের খবর, নয়া এসওপি-তে এস-ম্যাকের মাধ্যমে তথ্য লেনদেনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের সন্ত্রাসদমন শাখার (এটিএস) সঙ্গেও প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করতে বলা হয়েছে রাজ্যের জঙ্গিদমন সংস্থাগুলিকে।

গোয়েন্দাদের বক্তব্য, জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটি হিসেবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলি অতি মাত্রায় সংবেদনশীল। পড়শি দেশগুলির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে তাই উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলাগুলির উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে বলা হয়েছে। জঙ্গিদের কারা আর্থিক সাহায্য করছে এবং এলাকায় ঘাঁটি গাড়তে সাহায্য করছে, তার উপরেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অস্ত্র পাচার, নথি জালিয়াতি, হাওয়ালা চক্র প্রভৃতির বিরুদ্ধে অভিযানেও। জঙ্গিদের অর্থ জোগানোর ক্ষেত্রে ধরা পড়লে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের জন্য পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। এক পুলিশকর্তা বলেন, “জাল নোট থেকে বিস্ফোরণ, সব কিছুকেই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এ সবের পিছনে জঙ্গি-যোগ আছে কি না, তা দেখতে হবে। কারণ, খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণকে প্রথমে পুলিশ সাধারণ বিস্ফোরণ হিসেবে দাবি করলেও পরে সেখান থেকেই রাজ্যে জেএমবি জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা জানা যায়।”

প্রশাসনের খবর, এসটিএফকে বলা হয়েছে, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন, কারা অর্থ জোগাতে পারে তার বিস্তারিত তথ্য (যার মধ্যে হাওয়ালা কারবারি, সন্দেহজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেন এমন লোক), অস্ত্র কারবারি, বিস্ফোরক সংক্রান্ত তথ্য— এ সবের তথ্যভান্ডার তৈরি করতে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Suvendu Adhikari Terrorism

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy