অনুদানভুক্ত বা গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের বাদ রেখেই সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দিতে এ পর্যন্ত কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত নজরদারি কমিটিকে জমা দিল রাজ্য সরকার।
তাতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ দিতে গিয়ে রাজ্য সরকার এ পর্যন্ত খরচ করেছে প্রায় ৮,১০৩ কোটি টাকা। কিন্তু এই তথ্য সন্তুষ্ট করতে পারেনি কর্মচারী সংগঠনগুলিকে। তাদের বক্তব্য, মূল মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য আদালতে খরচের যে দাবি করেছিল এবং আদালত যে রায় দিয়েছিল, তা মান্যতা পায়নি রাজ্য সরকারের তরফে। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের আগামী শুনানিতে এবং নজরদারি কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় নজরদারি কমিটি বৈঠক করবে। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি ছাড়াও থাকতে বলা হয়েছে অনুমোদিত কর্মচারীসংগঠনগুলির প্রতিনিধিদেরও।
এ প্রসঙ্গে ডিএ মামলাকারী কর্মচারী সংগঠনের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “সকলে ডিএ বকেয়ার টাকা পাননি। আগে রাজ্য সরকার প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার হিসাব দিয়েছিল আদালতকে। তাহলে বাকি টাকা ছাড়া হয়নি এবং বিপুল অঙ্কের পার্থক্য রয়েছে! তাই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বোর্ড-কর্পোরেশন-সহ অনুদানভুক্ত কর্মীরা বকেয়া পাননি। ফলে আদালতের রায় যে পুরোপুরি মানেনি রাজ্য সরকার, তা নিয়ে অবমাননার মামলা করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের শুনানিতে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতকেজানানো হবে।”
রাজ্য সরকার তাদের অন্তর্বর্তী রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ ছাড়া হয়েছে ৫,০৪৪.৭৯ কোটি টাকা। ওই সময়কালে পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য ১,৯১৬.৪১ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে। এই দু’টি গোত্র মিলিয়ে ৬,৯৬১.২০ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে এ পর্যন্ত। পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যেকার সময়ের বকেয়া বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ৯১৪ কোটি টাকা ছেড়েছে সরকার। ওই সময়সীমায় প্রায় ৩৫ হাজার কর্মচারীকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪.৪২ কোটি টাকা। রয়েছে এমন আরও খুঁটিনাটি আরও হিসাব। কিন্তু এর কোথাও অনুদানভুক্ত কর্মচারীদের বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই।
কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, ডিএ মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারি কর্মচারী, সরকারি অনুদানভুক্ত কর্মচারী এবং উভয় গোত্রের পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ বাবদ খরচের একটি হিসাব জমা দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
তাতে বলা হয়েছিল, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের খাতে প্রায় ১১,৭৯০ কোটি, গ্রান্ট-ইন-এডদের জন্য প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি এবং পেনশনভোগীদের খাতে প্রায় ১১,৬১১ কোটি টাকা খরচ হবে বকেয়া ডিএ মেটাতে।
অন্যতম মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়ের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “সর্বভারতীয় মূল্যসূচক মেনে ডিএ দেওয়া এবং গ্রান্ট ইন ইড কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখেনি রাজ্য সরকার। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে অনুদানভুক্ত এই কর্মীদের বকেয়ার হিসাব দাখিল করেছিল সরকারই। তাই এই দু’টি বিষয় নিয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালতকে এই বিষয়টি জানানো হবে। ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছেও এই কথাটি আমরা উত্থাপন করব।”