রাজ্যে জমির তথ্য এবং খতিয়ান সংক্রান্ত ফি মকুব করেছে নবান্ন। বিনামূল্যেই জমি সংক্রান্ত তথ্য (প্লট ইনফরমেশন বা দাগ ও খতিয়ান এবং পরচা) অনলাইনে ডাউনলোড করা যাবে। তাতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলেই আশা করছে সরকার। তবে অনেকে বলছেন, রাজ্যের যা আর্থিক অবস্থা তাতে রাজস্বের ক্ষেত্রে ছাড় কি আদৌ সমীচীন?
ভূমি দফতরের অফিসারেরা অবশ্য বলছেন, এই ধরনের পরিষেবা থেকে এমন বড় মাপের রাজস্ব আদায় হয় না। তাই এই পরিষেবা বিনামূল্যে দিলেও তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। জেলা স্তরের এক ভূমি আধিকারিক বলছেন, ‘‘প্লট ইনফরমেশনের ক্ষেত্রে ২০ টাকা দিতে হত। পরচার ক্ষেত্রে মূল তথ্য ১০ টাকা এবং পাতা পিছু ১০ টাকা করে দিতে হত। এই পরিষেবা থেকে ব্লক পিছু আহামরি আয় হয় না। একে আমরা মাইক্রোস্কোপির রেভিনিউ বা ক্ষুদ্র রাজস্ব বলি।’’ ব্লক স্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘এই পরিষেবা বিনামূল্যে হওয়ায় কৃষকদের সুবিধা হবে।’’
ভূমি রাজস্ব আধিকারিকদের একাংশ বলছেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে বড় ফাঁকগুলি আটকাতে হবে। বহু ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক উদ্যোগ ইত্যাদির খাজনা বকেয়া থাকছে। সেগুলি আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে বালি, পাথর ইত্যাদির ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। আগের আমলে বালি, পাথর পাচারের ফলে রাজস্বের বড় ক্ষতি হয়েছে। তা নিয়ে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগও উঠেছে। পালাবদলের পর ভূমি দফতর অবশ্য রাজস্ব আদায়ে জোর দিয়েছে বলেও দাবি করছেন দফতরের কর্তাদের একাংশ। শুধু একটি জেলা থেকেই বালি এবং পাথরে রাজস্ব এক মাসে প্রায় চার গুণ বেড়েছে বলেও দাবি করছে দফতরের একাংশ। ভূমি দফতরের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘জেলাগুলিকে রাজস্ব আদায়ে জোর দিতে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জালে বড় মাছ ধরতে হবে। চুনোপুঁটিধরে লাভ হবে না। বরং ছোট ছোটফি মকুব সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, যা রাজনৈতিক দিক থেকে লাভজনক।’’