Advertisement
E-Paper

রাজ্যের দৈনিক ডেঙ্গি বুলেটিন প্রকাশ শুরু হল স্বাস্থ্য দফতর থেকে! শুভেন্দু আগেই আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য প্রকাশ্যে আনার

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠক শেষে তিনি আশ্বাস দেন, ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্য আড়াল করা হবে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ডেঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের মাঝে এ বার পদক্ষেপ করল রাজ্য। এ বার থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে প্রকাশিত হবে ডেঙ্গির বুলেটিন। ইতিমধ্যে তা শুরুও হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ কেমন, বর্তমানে কত জন আক্রান্ত, তার একটি সার্বিক চিত্র পাওয়া যাবে বুলেটিন থেকে। স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটেই সেই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০৬ জন। সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তা বোঝানোর জন্য মোট কত পরীক্ষা হয়েছে, তার মধ্যে কতজন ডেঙ্গি পজিটিভ— সেই তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭১২২ জনের এলাইজ়া পদ্ধতিতে রক্তপরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে পজিটিভ হয়েছেন ১৭৪ জন। তবে চলতি মরসুমে ডেঙ্গিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কত, তা বুলেটিনে উল্লেখ নেই। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, চলতি বছরের ৩৬ সপ্তাহ শেষে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি।

পূর্বতন সরকারের আমলে ডেঙ্গি সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য এ ভাবে প্রকাশ্যে আনা হত না। গত ১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে আশ্বাস দেন, ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্য আড়াল করা হবে না। এ বার সেই মতো ডেঙ্গির বুলেটিন প্রকাশ শুরু করে দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরাও। তাঁদের মতে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ্যে আনা না হলেও বুলেটিন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত ভাবে জনস্বাস্থ্যের নিরিখে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বিশেষত যে রাজ্যে ডেঙ্গির তথ্য চেপে রাখাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চিকিৎসকদের বক্তব্য, এ রাজ্যে ডেঙ্গির পরিসংখ্যান ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপানউতর দেখা যেত, তার একটা বড় কারণই হল মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে তৃণমূল বরাবর স্পর্শকাতর থেকেছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রেসক্রিপশনে ডেঙ্গি লেখা নিয়ে সরকারি চিকিৎসকদের উপরে ‘ফতোয়া’ জারির পথে হেঁটেছে স্বাস্থ্য ভবন। বলা হয়েছে, ডেঙ্গি নয়, লিখতে হবে অজানা জ্বর।

স্বাস্থ্য ভবনের ‘ফতোয়া উপেক্ষা’ করার জন্য সরকারি চিকিৎসক অরুণাচল দত্ত চৌধুরীর উপরে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসার নজিরও রয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগে সাসপেনশন উঠলেও তাঁকে উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়। ডেঙ্গির দৈনিক বুলেটিন প্রকাশ করা নিয়ে শুক্রবার আনন্দবাজার ডট কম-কে অরুণাচলবাবু বলেন, ‘‘নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। ২০১৭ সালে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের ডেথ সার্টিফিকেট আমি ইস্যু করেছিলাম। কোনও ডেথ সার্টিফিকেটে আমি মৃত্যুর কারণ লিখতে পারিনি। এই ১০টা মৃত্যু আমি নিতে পারিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের আক্ষেপ লেখার জন্য আমাকে সাসপেন্ড করা হয়। জনস্বাস্থ্যে রোগের বিস্তার না বুঝলে ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এই কথাটাই তৎকালীন সরকারকে বোঝানো যায়নি।’’

ডেঙ্গির মরসুম শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, মশাবাহিত এই রোগের তথ্য প্রকাশ্যে আনতে কোনও বাধা নেই। ডেঙ্গি হলে চিকিৎসকদের নির্ভয়ে প্রেশক্রিপশনে লেখার কথা বলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মৌখিক ভাবে এ কথা বলার পরে ডেঙ্গির বুলেটিন প্রকাশ সেই ঘোষণারই অঙ্গ বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।

অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের চিকিৎসক নেতা মানস গুমটা বলেন, ‘‘এটাই তো হওয়া উচিত। কোনও একটা রোগের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে তথ্য গোপন করে লড়াই করা যায় না। বিগত সরকারের সময় তথ্যগোপন একটা রোগে পরিণত হয়েছিল। নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। ডেঙ্গি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে এটাই নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।’’ ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকীও স্বাগত জানাচ্ছেন এই উদ্যোগকে। তিনি বলেন, ‘‘আগে ডেঙ্গিকে অজানা জ্বর বলে চালিয়ে দেওয়া হত। কোভিডের ক্ষেত্রেও একই রকম নীতি ছিল। সরকারের এই পদক্ষেপে মানুষের সচেতনতা বাড়বে। ডেঙ্গি রোধে সরকার এ ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পথে হাঁটলে চিকিৎসক সংগঠন হিসাবে আমরা পাশে থাকব। তবে সরকারি পদক্ষেপে কোথাও খামতি থাকলে সেটাও সরকারের নজরে আনব।’’

ডেঙ্গির তথ্যপ্রকাশ সম্পর্কে প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা চিকিৎসক অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দারুণ পদক্ষেপ। চোখ বন্ধ করে রাখলে কোথায় কী ক্ষতি হচ্ছে বুঝব কী করে? ডেঙ্গি প্রতিরোধ শুধু স্বাস্থ্য দফতরের কাজ নয়। সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হলেও তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। বিগত সরকারের আমলে ডেঙ্গি মোকাবিলায় অনেক দফতরকে এক ছাদের তলায় আনা সম্ভব হয়েছিল। যা বাম আমলে করা সম্ভব হয়নি। তবে তথ্যগোপনের প্রবণতা সেই ভাল উদ্যোগগুলোকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল।’’

Dengue West Bengal health department Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy