আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টা চলছিল। সেই অভিযোগে এ বার দু’জনকে গ্রেফতার করল রাজ্যে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং বিড়লাপুরে হানা দেন এসটিএফের আধিকারিকেরা। তাতেই আসে সাফল্য। ভাঙড় থেকে পাকড়াও করা হয় জানাদুল বেগকে। বিড়লাপুর থেকে গ্রেফতার হন সফিক শেখ। ধৃতদের সোমবার আলিপুর আদালতে হাজির করানো হবে।
সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমে দেশবিরোধী এবং সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে নোদাখালি থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছিল। পরে ওই মামলার তদন্ত শুরু করে এসটিএফ। তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, অভিযুক্তেরা ‘মুঘলে আজ়ম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামে দু’টি সমাজমাধ্যমে পাতা খুলেছিলেন। ওই দুই সমাজমাধ্যম পাতার মাধ্যমেই তাঁরা দেশবিরোধী প্রচার চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
পাশাপাশি সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন ধৃতেরা। জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা একটি মডিউল তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই উদ্দেশ্যে সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে যুবকদের নিয়োগ করারও চেষ্টা করছিলেন অভিযুক্তেরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তাঁরা অস্ত্র জোগাড়েরও চেষ্টা করছিলেন।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি বর্ধমানে হানা দিয়ে হামিম মণ্ডল নামে যুবককে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টীর গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলে অভিযোগ। গত সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে এসটিএফ-এর হাতে ধরা পড়েন পাকিস্তানি নাগরিক ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামের এক যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, রানার ‘শাগরেদ’ হিসাবে কাজ করতেন ইজাজ।
এ বার জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টায় এসটিএফ-এর হাতে গ্রেফতার হলেন দুই অভিযুক্ত।