ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে নিশানা করে গোড়া থেকেই রাজনৈতিক প্রচার করেছিল তৃণমূল। ভোটের আগে নাম বাদ যাওয়া রুখতে সংগঠনকেও মাঠে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এসআইআরের পরে ভোটে জিততে পারেনি তৃণমূল। এ বার দেড় দশক পরে শুরু হওয়া জনগণনা (সেনসাস) নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বলেন, ‘‘সেনসাসে রাজনৈতিক দলগুলিকে যুক্ত করা হচ্ছে না। অন্তত আমাদের পার্টিকে করা হয়নি। কে দেখবে যে কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে?’’ মমতার সংযোজন, ‘‘এসআইআরে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখনও ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ওঠেনি। এটা আর একটা এসআইআর নয় তো?’’
কৌতূহলের বিষয়, সেনসাস প্রক্রিয়ায় কি আদৌ রাজনৈতিক দলগুলির কোনও অংশগ্রহণ থাকে? শেষ বার সেনসাস হয়েছিল ২০১১ সালে। দেড় দশক পরে ফের জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত একাধিক আমলার বক্তব্য, কোনও দিনই সেনসাসে রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণ থাকে না। প্রবীণ সিপিএম নেতা রবীন দেবের বক্তব্য, ‘‘কোনও কালেই সেনসাস প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি অন্তর্ভূক্ত থাকে না। পার্টিগুলি নিজেদের মতো করে সাংগঠনিক ভাবে সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখে কী হচ্ছে। এর থেকে বেশি কিছু নয়।’’ ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তূভ বাগচী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ভাবে ওঁর (মমতার) আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তাই ভেসে থাকতে তিনি এ সব কথা বলছেন।’’
আরও পড়ুন:
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছিল। তার পর জুন এবং জুলাই মাসের ৪ তারিখে মমতা ফেসবুক লাইভ করে তাঁর বক্তব্য জানিয়েছিলেন। অগস্টের ৪ তারিখেও তার অন্যথা হল না। মঙ্গলবার মমতা দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ মমতার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফের এক বার বিজেপি-বিরোধী সব দলকে জোট বার্তা দিতে চেয়েছেন। যা তিনি বলেছিলেন গত ৯ মে এবং ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি থেকেও।
‘অন্নপূর্ণা ভাঁওতা’
অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সঠিক ভাবে অর্থ যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, এক দিকে বহু মহিলার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরাও ঠিক মতো অর্থ পাচ্ছেন না। কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘অন্নপূর্ণার নাম করে ভাঁওতা চলছে।’’ বহু মহিলা বিধবাভাতাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মমতার।
তোপ আরএসএস-কে
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হস্তক্ষেপে তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়’ হয়ে রয়েছে। লেনদেন আপাতত বন্ধ। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি এবং আরএসএসের দিকে আঙুল তোলেন মমতা। তাদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বিদেশের অর্থ আসে, সঙ্ঘের রেজিস্ট্রেশন নেই, ইত্যাদি অভিযোগ তুলে মমতা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা পুরোটাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে।