Advertisement
E-Paper

‘জাতীয় মথ সপ্তাহ’ পালিত হল রাজ্যে, নিশাচর পতঙ্গদের প্রজাতি বৈচিত্র চেনাতে কর্মশালা কলকাতা, সুন্দরবনে

ভারতবর্ষে বর্তমানে আনুমানিক ১৩,৫০০ প্রজাতির লেপিডপ্টেরা (প্রজাপতি ও মথ এই গোত্রভুক্ত) প্রজাতির মধ্যে ১২,০০০-এরও বেশি মথ নথিভুক্ত হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৪
রাতের অন্ধকারে মথের অনুসন্ধান।

রাতের অন্ধকারে মথের অনুসন্ধান। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা এবং সুন্দরবনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিয়ে ‘জাতীয় মথ সপ্তাহ ২০২৬’ পালন করল বন্যপ্রাণপ্রেমী সংগঠন ‘নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি’ (নিউজ়)। একাধিক কর্মশালাপ মাধ্যমে ‘নাগরিক বিজ্ঞান মডেল’ অনুসরণ করে হল মথ বৈচিত্র নথিভুক্তকরণ।

মথের গঠন ও বৈশিষ্ট্যগত বৈচিত্র, পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মথ বৈচিত্র নথিভুক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জাতীয় মথ সপ্তাহ’ উদযাপন করা হয়। নিউজ়-এর সদস্যা দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মথ শুধুমাত্র একটি নিশাচর পতঙ্গ নয়, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু বন্য উদ্ভিদ, ভেষজ, শাক-সব্জি, ফল এবং অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্ভিদের রাত্রিকালীন পরাগমিলনে মথ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, পাখি, বাদুড়, সরীসৃপ-সহ নানা বন্যপ্রাণীর প্রধান খাদ্য হিসেবে তারা খাদ্যশৃঙ্খলকে সচল রাখে। মথকে তাই বাস্তুতন্ত্রের সূচক (বায়ো-ইন্ডিগেটর) হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ভারতবর্ষে বর্তমানে আনুমানিক ১৩,৫০০ প্রজাতির লেপিডপ্টেরা (প্রজাপতি ও মথ এই গোত্রভুক্ত) প্রজাতির মধ্যে ১২,০০০-এরও বেশি মথ নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ভারতীয় সুন্দরবনের মথ বৈচিত্র এখনও তুলনামূলক ভাবে ‘অজানা’ এবং এ বিষয়ে গবেষণাও সীমিত। এই প্রেক্ষাপটে নিউজ়-এর উদ্যোগে ‘জাতীয় মথ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৩শে জুলাই পর্যন্ত কলকাতার শহরতলি ও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্কুলপড়ুয়া, তরুণ-তরুণী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ‘মথ নাইটস আউট’ নামক মথ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

এই কর্মসূচিতে কলকাতা শহরতলির সাহাপুর (আমডাঙ্গা ব্লক) ও তারদহ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (ভাঙড়–১ ব্লক) এবং সুন্দরবনের আমতলি (গোসাবা ব্লক), গোপালগঞ্জ (কুলতলি ব্লক), লক্ষ্মীপুর (কাকদ্বীপ ব্লক) ও দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জ (পাথরপ্রতিমা ব্লক)-এ রাত্রিকালীন কর্মশালায় মথের গঠন ও বৈশিষ্ট্যগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করা হয়। সংস্থার সদস্য অংশুমান রাহা বলেন। ‘‘আনুমানিক সাহাপুর থেকে ৪০টি, তারদহ থেকে ১৫টি, আমতলি থেকে ১৫টি, গোপালগঞ্জ থেকে ২৫টি, লক্ষীপুর থেকে ৪৫টি এবং দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জ থেকে ৩৬টি মথ প্রজাতি নথিভুক্ত হয়। স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোনে তোলা ছবি ‘আই-ন্যাচারালিস্ট’ এর আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডারে জমা দিয়েছে।’’ অংশুমান জানান, সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণ, মথের বিস্তার ও সংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ, সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় বাদাবন অঞ্চলের জীববৈচিত্র সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে।

Moth Sundarbans

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy