গায়ে চকচকে সোনালি বিকিনি। লম্বা ছিপছিপে চেহারায় সটান হেঁটে আসছেন তরুণী। কোলে একটি ফুটফুটে শিশু। কাছে আসতে বোঝা গেল, সেই শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন তরুণী! ইনস্টাগ্রামে এই ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
এই একবিংশ শতকেও যেখানে প্রকাশ্যে সন্তানকে স্তন্যপান করানোর অস্বস্তি তাড়া করে বেড়ায় মহিলাদের, সেখানে সেই অস্বস্তিকে চ্যালেঞ্জে ফেলে পেশাদার অনুষ্ঠানের মঞ্চকেই বেছে নিলেন আমেরিকার মডেল মারা মার্টিন।
রবিবার মিয়ামিতে এক সুইমস্যুটের শোয়ে ক্যাটওয়াক করতে করতেই পাঁচ মাসের শিশুকন্যা আরিয়াকে স্তন্যপান করালেন তিনি। তবে সমালোচনার জবাব দিতেও পিছপা হননি তিনি। সমালোচক সকলকে ইনস্টাগ্রামেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই মডেল।
আরও পড়ুন: আমেরিকার জালে রাশিয়ার সুন্দরী চর!
আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “সকালে উঠে একটা খুব সাধারণ দৈনন্দিন কাজের জন্য সংবাদ শিরোনামে নিজেকে ও আমার মেয়েকে দেখে তাজ্জব হয়ে যাই। যা ঘটল তা অত্যন্ত অপমানজনক ও কথাগুলোও মিথ্যা।’’ তিনি যে নিজের কাজ নিয়ে এতটুকু অনুতপ্ত নন, সে কথা জানিয়ে বলেন, ‘‘এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পেরে আমি বরং নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার আশা, এ ভাবে সর্বসাধারণের মধ্যে স্তন্যপানের সচেতনতা তৈরি করতে পারব। সকলকে বুঝিয়ে দিতে পারব, মেয়েরা সব পারে!”
মেয়ে আরিয়াকে মঞ্চেই স্তন্যপান করানোর সিদ্ধান্ত মাতৃত্বের অনুভূতি থেকে তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। শো শুরু হতে দেরি হওয়ায় মেয়ের খিদে পেয়ে গিয়েছিল, তা বুঝেই তাকে স্তন্যদান করেন তিনি। এমনকী, মেয়ের দিকে নজর রাখবেন বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন উদ্যোক্তাদের কাছে। সে অনুমতি মিলেওছিল।
এ দিকে মার্টিনের এই কাজ নিয়ে বিতর্ক চললেও, মায়েদের শিশুকে স্তন্যপান করাতেই উৎসাহ দিচ্ছে মার্কিন সরকার। চলছে তা নিয়ে নানা প্রচারও। কারণ, বেশির ভাগ মহিলাকেই সন্তানের জন্মের কয়েক সপ্তাহ পরে ফিরতে হয় কর্মক্ষেত্রে।