পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত। হামলা-পাল্টা হামলার আবহেই ইরান মঙ্গলবার দাবি করেছে, আমেরিকা তাদের শর্ত মেনে নিলে আগামী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে তারা। যদিও মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস ছিল, নভেম্বরে আমেরিকান কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি হবে।
রবিবারই ট্রাম্প ইরানকে কার্যত হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আগামী দিনে আরও ‘গুরুতর’ হামলা চালানো হবে। পাল্টা হামলা চালাতে যে ইরানও প্রস্তুত, সে কথা জানিয়েছিল ইরান সেনা। তবে মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইরান সেনার এক শীর্ষ কর্তা দাবি করেন, সামরিক অভিযান না চালিয়ে যদি ‘কূটনৈতিক ভাবে’ মিটমাট করে নেওয়ার কথা বলে আমেরিকা, তা হলে ইরানও তা সমর্থন করবে। তিনি বলেন, যদি আমেরিকা ইরানি বন্দরগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আর জলপথে সামরিক চাপ কমিয়ে দেয়, তা হলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে তারা।
এরই মধ্যে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভাতেও এ দিন ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আঁচ লেগেছে। এ দিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার কথা ভাবছে আমেরিকা। তিনি এ-ও দাবি করেন, ইরানকে কোনও দিনই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেওয়া হবে না। শান্তি চুক্তির পরিবর্তে তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেবেন’, এমনও হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় যোগ দিতে আজই নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেও আমেরিকায় ঘোরাফেরা নিয়ে নানা নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে তাঁদের উপরে। জানা গিয়েছে, এ দিন যখন ট্রাম্প বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন না তাঁরা।
যুদ্ধ থামানোর দাবি
নিউ ইয়র্ক ২২ সেপ্টেম্বর: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে ফের দাবি করলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় বক্তৃতায় আজ তিনি দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত-সহ আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন তিনি। গত বছরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে তিনিই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামান বলে বারবার দাবি করেছেন ট্রাম্প। দাবি করেছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণরক্ষার জন্য পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন। ভারত অবশ্য বরাবরই দাবি করে এসেছে, পাক সেনার ডিজিএমও-র তরফে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব এসেছিল। অন্য দিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান তাঁর বক্তৃতায় আরও এক বার তুলেছেন কাশ্মীর প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ‘‘দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীর-সহ সব সমস্যাই রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’’