সামনেই কালী পুজো। মনে করা হয়, এ সময়ে ভূতপ্রেতেরা অনুচর হয়ে মর্ত্যে আসেন মা কালীর সঙ্গে। তন্ত্রসাধনার ক্ষেত্রেও সে উল্লেখ মেলে। এ সময়ে কি তবে অশরীরী অভিজ্ঞতা হয়? পুজো থেকে কালীপুজোর সময়কালে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে নাকি অলৌকিক কাণ্ড ঘটে প্রতি বারই। তেমনই কিছু ঘটনার কথা নিজেই আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা।
গত ষোলো বছর ধরে দুর্গাপুজো হচ্ছে সুদীপার বাড়িতে। ষষ্ঠীর দিন বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। সপ্তমীর দিন শিব আসেন, তাই শৈব মতে পুজো শুরু হয়। সন্ধিপুজোর পর থেকে দশমী পর্যন্ত পুজো হয় তন্ত্র মতে।
সুদীপা জানান, সেই সময় থেকেই দেবীর মুখ-চোখ যেন পাল্টে যায়। তন্ত্র মতে পুজো শুরু হওয়ার পর থেকে কালীপুজো পর্যন্ত তাঁদের বাড়ির ছাদে একা বসতে পারা যায় না।
আরও পড়ুন:
বিশ্বাস করা হয়, তন্ত্র মতে পুজো শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আত্মা মুক্তি কামনা করতে মায়ের চরণে এসে আশ্রয় নেন। তাই যখন থেকে তন্ত্র মতে পুজো শুরু হয়, তখন থেকেই বাড়ির কেউ আর দেবীকে স্পর্শ করেন না। প্রতিমার চার পাশ শিকল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়, যাতে সেখানে কেউ চলে না যায়। শুধুমাত্র পূজারী ব্রাহ্মণ এবং তাঁর সহকারী মাকে স্পর্শ করতে পারেন।
সুদীপার মতে, এই সময়ে দেবীকে স্পর্শ না করার কারণ হল— যখন বিভিন্ন আত্মা দেবীর চরণে এসে আশ্রয় নেন, তখন প্রতিমার কাছে গেলে তাঁদের গায়ে পা লাগতে পারে বা তাঁরা বিরক্ত হতে পারেন। তাই এই ব্যবধান তৈরি করা হয়।
অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা আরও জানান, এই পুজোর পর থেকে ভূতচতুর্দশী, অর্থাৎ চোদ্দো পুরুষকে প্রদীপ দেওয়ার দিন পর্যন্ত বাড়ির সকলেই অনুভব করতে পারেন পূর্বপুরুষদের উপস্থিতি। সে কারণেই ওই সময়ে একা ছাদে বসতে পারা যায় না। বসলেও গা ভারী হয়ে আসে বলে দাবি সুদীপার। বছরের পর বছর নাকি এমন অলৌকিক অভিজ্ঞতা হয়ে আসছে তাঁদের।
পারিবারিক রীতি মেনে কালীপুজোর আগের দিন পূজারী এসে চোদ্দো প্রদীপ দেন পূর্বপুরুষদের। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুজো করে ধুনো জাতীয় কিছু জ্বালিয়ে প্রদক্ষিণ করেন গোটা ছাদ। পূর্বপুরুষদের অনুরোধ করা হয় ফিরে যেতে। বলা হয়, পরের বছর যখন আবার মা আসবেন, তখন যেন তাঁরা আবার আসেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।