Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

অন্ধকারে পিছন থেকে চেপে ধরল কে? চারশো বছরের ভিটে নিয়ে হাড়হিম গল্প শোনালেন জয়জিৎ

অশরীরী শক্তির উপস্থিতি বিশ্বাস করা বা না-করা যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, জীবনে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় যা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৩৪
তাঁকে পিছন থেকে চেপে ধরল কে?

তাঁকে পিছন থেকে চেপে ধরল কে?

দীপাবলি আর কালীপুজোর আবহ মানেই আলোর রোশনাইয়ের পাশাপাশি বাঙালির আড্ডায় অবধারিত ভাবে উঠে আসে গা-ছমছমে ভূতের গল্প। অশরীরী শক্তির উপস্থিতি বিশ্বাস করা বা না-করা যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, জীবনে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় যা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কালীপুজোর আবহে আনন্দবাজার ডট কম-এর মুখোমুখি হয়ে তেমনই কিছু ফেলে আসা স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি ফিরে যান মুর্শিদাবাদের এক অভিজ্ঞতায়। প্রায় তিনশো-চারশো বছরের পুরনো এক ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়িতে চলছিল শুটিং। বাড়িটির অবস্থা এতটাই জরাজীর্ণ যে দোতলায় পা ফেললে বা সামান্য হাঁটাচলা করলেও ছাদ কেঁপে উঠত। আলো-আঁধারির সেই গা-ছমছমে পরিবেশে দোতলায় দৃশ্যগ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ক্যামেরা নিয়ে দলের প্রত্যেকেই উঠে গিয়েছিলেন উপরে। সবার শেষে একা সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলেন জয়জিৎ। মাঝরাস্তায় পৌঁছতেই হঠাৎ ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড। অভিনেতার স্পষ্ট অনুভূতি হয়, কেউ যেন পিছন থেকে তাঁকে টেনে ধরেছে, কিছুতেই দোতলায় উঠতে দিচ্ছে না। আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। ফ্লোরের লোকজন ছুটে আসেন, কিন্তু জয়জিৎ ফিরে তাকিয়ে দেখেন সেখানে কেউ নেই, শুনশান সিঁড়ি খাঁ-খাঁ করছে।

এই অভিজ্ঞতা ছাড়াও পাহাড়ে বা গভীর জঙ্গলে শুটিংয়ের সময় বহু বার এমন অনুভূতি হয়েছে তাঁর। যেন পাশ দিয়ে নিঃশব্দে কেউ হেঁটে চলে গেল, কিন্তু মুখ ফিরিয়ে কাউকে দেখা যায়নি। তবে ভূতের প্রসঙ্গে নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় জয়জিতের সংযোজন, “রোজ সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ালেই তো আমি ভূত দেখতে পাই!” এ ছাড়া রক্তমাংসের অন্য কোনও ভূত দেখার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি।

কালীপুজোর স্মৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর রঙিন শৈশবও। ছোটবেলায় কালীপুজো মানেই ছিল বাজি পোড়ানোর অদম্য উন্মাদনা। শুধু কেনা বাজি নয়, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ঘরেই বারুদ দিয়ে বাজি তৈরি করতেন তিনি।

তবে সেই বাজি পোড়ানোর অভ্যাসে আকস্মিক দাঁড়ি পড়ে এক দুর্ঘটনার পর। একবার নিজের হাতে রংমশাল বানাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেটি হাতেই বিকট শব্দে ফেটে যায়। অভিনেতার কথায়, যেন চোখের সামনে একসঙ্গে দশ হাজার পাওয়ারের তীব্র আলো জ্বলে উঠেছিল। সেই বিস্ফোরণে হাত মারাত্মক ভাবে পুড়ে যায় তাঁর। তখন একসঙ্গে তিনটি মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। পোড়া হাত দেখে পরিচালকদের তুমুল বকুনি খেতে হয়েছিল। অভিনয়ের পেশার দায়িত্ববোধ থেকেই সে দিন চিরতরে বাজি পোড়ানোয় ইতি টানেন অভিনেতা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে পুজোর উদ্‌যাপন। এখন দীপাবলি কাটে অনেক শান্ত ভাবে। বন্ধুর বাড়ির পুজোয় দিনভর উপোস থেকে অঞ্জলি দেওয়াটাই তাঁর বর্তমান রুটিন। তবু উৎসবের দিনগুলোয় স্মৃতির পথ বেয়ে বারবার ফিরে আসে সেই দিনগুলো, যেখানে ভয় আর শৈশবের আনন্দ মিলেমিশে একাকার।

এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

Celebrity Horror Stories

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy