ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র ক'টা দিন। শহর সাজছে। এই বছরের পুজোটা অনুপম রায়ের কাছে খানিক অন্যরকম। তার অবশ্য কারণও রয়েছে। বাবা হিসেবে এই তাঁর প্রথম পুজো। একই সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে অ্যালবাম 'ব্যথা নেই'। সব মিলিয়ে জমজমাট সবটা।
কেনাকাটা
এই বছরটা তাঁর সদ্যোজাতর প্রথম পুজো। একরত্তির কেনাকাটা হয়েছে? হাসতে হাসতে অনুপম বললেন, “আমাকে বাচ্চার জন্য কিছুই কিনতে হয় না। এত তার শুভাকাঙ্ক্ষী। তারা রোজ একটা করে জামা একটা করে খেলনা বা একটা কিছু পাঠাতে থাকে।"
প্রেম
পুজো মানেই প্রেম, প্রেম মানেই পুজো। আর অনুপম রায় বলতেই ফুটে ওঠে এক সৌম্যকান্তি চেহারা। এ হেন অনুপমের পুজোয় প্রেম হয়েছে? হাসতে হাসতে তাঁর উত্তর, "আমি তো প্রত্যেক পুজোতেই চাইতাম একটা প্রেম হোক কিন্তু কিছুতেই হতো না। পুজোয় মানুষ প্রেমের অপেক্ষাও করে। কিন্তু পৃথিবীতে মিরাকল বলে তো কিছু নেই, যার ফলে কিছু হয় না। যেমন জীবন সে রকমই কাটতে থাকে। আরও একটা পুজো চলে আসে।"
'দুষ্টুমি' তাঁর ধাতে নেই। তাই সারারাত ঠাকুর দেখা, বা বেসামাল হয়ে কাণ্ড তিনি ঘটাননি পুজোতে। কলেজে পড়াকালীন গভীর রাত অবধি ঠাকুর দেখলেও 'হোলনাইট'-এর পরিকল্পনা বানাননি সে ভাবে। সে কথা বলতে গিয়েই ফিরে গেলেন অতীতে। বলছিলেন, "একবার পুজোর সময় বন্ধুদের সঙ্গে 'প্রিয়া' তে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। রাস্তায় প্রচুর যানজট। কোনও কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। একটা ট্যাক্সি করে কিছুটা তারপর বাকি রাস্তা অর্থাৎ ঠাকুরনগর পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়েছিল। নতুন জামা ঘামে ঘেঁটে ঘ।"
তিন বর
মা দুর্গার কাছে তিনটে বর চাওয়ার সুযোগ পেলে কী কী বর চাইবেন? সব পেয়েছেন যিনি, তাঁর কি প্রাপ্তির ঝুলি এখনও ফাঁকা? অনুপমের উত্তর, "প্রথমত চাইব, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাক। খাদ্যে যেন কোন ভেজাল না থাকে আর তৃতীয়ত, পৃথিবীতে সবাই যেন সুস্থ থাকে।"
সদ্য বাবা হয়েছেন, তাই হয়তো নিজের সন্তানের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী চান। 'এ পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযোগ্য করতে' কে না চান, বলুন তো?
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।