ভূতের অস্তিত্ব আজও এক রহস্যে মোড়া। মাঝরাতে অচেনা পায়ের শব্দ, হঠাৎ কারও উপস্থিতি অনুভব করা, কিংবা নির্জন ঘরে অদৃশ্য কারও নিঃশ্বাসের শব্দ মানুষের মনে জন্ম দেয় অজানা আতঙ্ক। অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা ভূতের অস্তিত্ব টের পেয়েছেন। সত্যিই কি সবটাই মনের ভুল? নাকি অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এমন কোনও রহস্য, যার উত্তর আজও মানুষের অজানা? কালীপুজোর আগে আগে এমন গল্প শুনতে বেশ গা ছমছমে অনুভূতি হয়। আনন্দ উৎসবে তেমনই ভৌতিক কাণ্ডকারখানার গল্প শোনালেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী।
লিলি চক্রবর্তী। এমন এক অভিনেত্রী, যিনি টলিউড ও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা থেকে পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন দাপটে। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পাহাড়ি সান্যাল, মিঠুন থেকে রাজেশ খন্না, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিখ্যাত সব ছবিতে। আবার সত্যজিৎ রায়, তরুণ মজুমদার, ঋতুপর্ণ ঘোষ থেকে হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতেও লিলি সফল। আজও তিনি বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দায় আসা মানেই দর্শকের মুখে হাসি, মনে নস্টালজিয়ার বাঁশি।
আনন্দবাজার ডট কম-কে লিলি বলেন, ‘‘আমাকে পর্দায় দেখে নরম গোছের মনে হলেও আমি ভূতে একদম বিশ্বাস করি না। ভূতের ছবি দেখতেও ভয় লাগেনি কখনও। এক বার ইংরেজি ছবি এসেছিল। ভূতের গল্প। সবাই বলল— দেখো না, দেখলেই ভীষণ ভয় লাগবে। কিন্তু আমি তো সিনেমাহলে পৌঁছে গেলাম ছবি দেখতে। দেখে দিব্যি খোশ মেজাজে বেরিয়ে এলাম। ছবি দেখে ভূতের ভয় সে ভাবে লাগেনি।
তবে এক বার ভূতেদের কাণ্ডকারখানা টের পেয়েছিলাম। এই কয়েক বছর আগেই। খোলসা করেই বলি। ‘দেবী চৌধুরানিʼ সিরিয়ালের শ্যুটে মুর্শিদাবাদে আউটডোরে গিয়েছিলাম। পৌঁছে কানাঘুষো শুনতে পেলাম, সেই বাড়িতে নাকি ভূত আছে। কানাঘুষো ক্রমশ বাড়তে লাগল। আরও অনেকেই বলতে লাগল, এখানে ভূত আছে। আমি আবার ওদের বললাম— ভূত বলে কিছু নেই, আমি ভূতে বিশ্বাসই করি না! যাই হোক, শ্যুট শেষে রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে আমি আমার ঘরে শুয়ে পড়েছি। সঙ্গে আমার একটি কাজের মেয়ে ছিল। প্রথমে নিশ্চিন্তেই ঘুমোচ্ছিলাম। মাঝরাতে শুরু হল ভূতের খেল!ʼʼ
কী খেল শুরু করেছিল ভূতেরা? আজও যে রাত ভুলতে পারেন না বর্ষীয়ান অভিনেত্রী? এ রকম অভিজ্ঞতা এত দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নাকি কখনও ঘটেনি তাঁর। ঠিক কী ঘটেছিল?
লিলির কথায়, ‘‘হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল দরজা ঠকঠক করার শব্দে। কিছু ক্ষণ পরে আবার ঠকঠক। আমার সঙ্গে থাকা মেয়েটি বলল, দিদি দরজা খুলব? আমি বললাম, একদম খুলবি না, চুপ করে শুয়ে থাক্। কিছুক্ষণ পরে ফের জানলায় ঠকঠক। তখনও আমি চুপ। কোনও সাড়াশব্দ করছি না আমরা। দরজা অনেক বার ঠকঠক করলেও সে রাতে দরজা খুলিনি আর। যখন কম বয়সে অভিনয় জগতে এসেছিলাম, তখন সিনিয়র শিল্পীরাও বলতেন আউটডোরে গিয়ে রাতে দরজা ধাক্কা দিলে একদম না খুলতে।
সকাল হতে যখন শ্যুটিংয়ে গিয়েছি, তখন ইউনিটের লোকেরাই আমায় দেখে প্রশ্ন করল, ‘‘দিদি কাল রাতে তোমার ঘরে ভূত এসেছিল?ʼʼ আমি বললাম, হ্যাঁ দরজা ঠকঠক করছিল! কিন্তু আমরা খুলিনি।
তখন ইউনিটের ছেলেগুলোর কী হাসি! আসলে ওরাই আমাকে ভূতের ভয় দেখাতে রাতে দরজা ঠকঠক করে মজা করছিল। আমি যে ভূতের ভয় পাই না এই বৃদ্ধ বয়সেও, ভূতে বিশ্বাস করি না— সে দিন ওরা সেটা বেশ বুঝে গিয়েছিল। তবে বিরক্ত হইনি। বরং মজাই লেগেছিল। কারণ ইউনিটের মানুষগুলো ভাল ছিল।ʼʼ
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।