পুজোর সাজে নতুনত্ব আনতে পোশাক, গয়না থেকে জুতো— সব কিছুতেই চলে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কখনও পোশাকের রঙে, কখনও গয়নার নকশায় থাকে চমক দেওয়ার চেষ্টা। তবে এ বার সাজের অনুষঙ্গ হতে পারে ছোট্ট অথচ নজরকাড়া এই বস্তু— ফিঙ্গার ওয়াচ বা আঙুলঘড়ি। নামেই স্পষ্ট, আংটির মতো আঙুলে পরা যায় এই ঘড়ি। ঘড়ি ও গয়নার মেলবন্ধনে তৈরি এটি সময় দেখার পাশাপাশি সাজেও যোগ করতে পারে অভিনবত্ব।
কেন পরবেন আঙুলঘড়ি?
প্রচলিত হাতঘড়ির বদলে অন্য ধরনের জিনিস পরতে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আঙুলঘড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প। আকারে ছোট হওয়ায় আঙুলে পরা যায় সহজেই। আলাদা করে আংটি ও হাতঘড়ি পরার বদলে একই অনুষঙ্গে দুই ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। তবে কেনার আগে ঘড়িটির মাপ, আঙুলে পরার আরাম এবং সময় দেখার সুবিধার দিকে নজর রাখা জরুরি। নকশা যতই আকর্ষণীয় হোক, আঙুলে বেশি আঁটসাঁট হলে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কেমন ধরনের ঘড়ি বেছে নেবেন?
আঙুলঘড়ির ক্ষেত্রে নকশা, রং ও ডায়ালের ধরনে রয়েছে বৈচিত্র্য। অ্যানালগ এবং ডিজিটাল— দুই ধরনের ঘড়িই পাওয়া যায়। স্টিল, সোনালি, রুপোলি কিংবা কালো রঙের নকশা বেছে নিতে পারেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী। কেউ পছন্দ করতে পারেন সাধারণ ও হালকা নকশা, কেউ আবার নজরকাড়া ডায়াল বা অলঙ্কারের মতো দেখতে ঘড়ি বেছে নিতে পারেন। কেনার আগে ব্যাটারি, সময় দেখার নিয়ম এবং ঘড়ির স্থায়িত্ব সম্পর্কেও জেনে নেওয়া ভাল। অনলাইন বিপণি বা ঘড়ির দোকানে খোঁজ করলে বিভিন্ন ধরনের নকশা মিলতে পারে।
পুজোর সাজে কী ভাবে মানাবেন?
ষষ্ঠীর হালকা সাজ হোক বা অষ্টমীর জমকালো শাড়ি, ফিঙ্গার ওয়াচ হতে পারে সাজের অন্যতম আকর্ষণ। সোনালি বা রুপোলি নকশা সাবেকি পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। আবার কালো কিংবা স্টিলের ঘড়ি আধুনিক পোশাকের সঙ্গে তৈরি করতে পারে অন্য রকমের সমন্বয়। তবে আঙুলঘড়ি পরলে হাতে অতিরিক্ত আংটি বা ভারী গয়না না পরাই ভাল, বিশেষত ঘড়িটিই যদি সাজের মূল আকর্ষণ হয়।
শুধু ফ্যাশন নয়, ব্যবহারিক দিকটিও মাথায় রাখুন। ঘড়ির ডায়াল খুব ছোট হলে সময় দেখতে অসুবিধা হতে পারে। তাই নকশার পাশাপাশি নিজের সুবিধাকেও গুরুত্ব দিন। পুজোর সাজে চেনা হাতঘড়ির বাইরে নতুন কিছু চেষ্টা করতে চাইলে আঙুলঘড়ি হতে পারে অভিনব সংযোজন।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।