পুজোর আগে সব থেকে মজার বিষয় হল পুজোর কেনাকাটা। আর উৎসবের কেনাকাটা মানেই তো সুন্দর সুন্দর জামাকাপড়, সঙ্গে মানানসই গয়না, জুতো, ব্যাগ, আরও কত কী!
পুজোয় নতুন জামা সবাই পরে। এ বছর কি আপনি একটু অন্য কিছু পরতে চান?
যদি মা-দিদিমা-ঠাকুমার পুরনো শাড়ি, জামাকাপড় গুলো দিয়েই বানিয়ে নেওয়া যায় নতুন কিছু, তা হলে কেমন হয়?
সব মেয়েদের কাছেই খুব প্রিয় তাঁদের মা-দিদিমা-ঠাকুমার শাড়ি। ভাল করে তাঁদের পুরনো আলমারির তাক ঘেঁটেঘুটে বার করে ফেলুন আপনার সবচেয়ে পছন্দের শাড়িটি।
পুরনো গন্ধ মাখা মা, দিদিমা বা ঠাকুমার সেই শাড়ির সঙ্গে থাক মানানসই ব্লাউজ। তাতেই তৈরি হবে আপনার পুজোর লুক। যেমন, মায়ের পুরনো তাঁতের শাড়ির সঙ্গে আধুনিক কাটের ব্লাউজ, পুরনো সিল্কের সঙ্গে একরঙা ব্লাউজ অথবা জামদানির সঙ্গে হাতকাটা কিংবা গলায় নতুন ধরনের নকশা করা ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন।
এ ছাড়া, নিজের মতো স্টাইল-স্টেটমেন্টও হতেই পারে। পুরনো শাড়ি দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন নতুন জামা, চুড়িদার, বা অন্য ধরনের কোনও ড্রেস। শাড়ির আঁচল ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন ওড়না। কিংবা বানিয়ে ফেলতে পারেন কুর্তির উপরে পরার জ্যাকেট।
যে সব শাড়ি বহুদিনের ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে পড়েছে, সেগুলোর টুকরো দিয়ে নকশা করতে পারেন নতুন পোশাকে। ফলে পুরনো শাড়ি হারিয়ে না গিয়ে নতুন জীবন পাবে উৎসবের দিনে। নিজেই তৈরি করছেন। ফলে জামাগুলো তো বিশেষ হবেই, তাতে জড়িয়ে থাকবে অনেক স্মৃতি।
জামা কাপড় তো হল, এ বার গয়নার পালা। মায়ের পুরনো সোনার হার, ঠাকুমার ঝুমকো, দিদিমার চুড়ি—সব কিছুই, একটু বুদ্ধি করে নতুন সাজে ব্যবহার করতে পারেন। অষ্টমীর দিন লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে মানানসই গয়না, সঙ্গে খোঁপায় একটু জুঁই ফুলের মালা পরলে চিরচেনা বাঙালি সাজেই হয়ে উঠবেন অনন্যা। শাড়ির সঙ্গে পুরনো রুপোর দুল বা হারও পরতে পারেন।
সপ্তমীতে হালকা জামদানি, অষ্টমীতে লাল-সাদা তাঁত কিংবা গরদ, নবমীতে পুরনো সিল্ক, দশমীর সিঁদুর খেলায় পুরনো লাল পাড়ের শাড়ি। সঙ্গে মানানসই গয়না, ব্লাউজ, চুলের সাজ। তাতেই কিন্তু তৈরি আপনার অন্য ধরনের পুজোর লুক।
নতুন শাড়ি-জামাকাপড়ের ভিড়ে মা-দিদিমা-ঠাকুমার পুরনো জামাকাপড় বেছে নেওয়া শুধু নতুন লুকের পথে হাঁটা নয়। এ হল পুরনো স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের জীবনে ফিরিয়ে আনার একটা উপায়। একই শাড়ি হয়তো কোনও এক সময় পরেছিলেন আপনার মা, তারও আগে আপনার ঠাকুমা বা দিদিমা। এখন সেই শাড়িই আপনার পুজোর সাজে ফিরে এসে নতুন রূপ পাবে। আর আপনার গা জড়িয়ে থাকবে শুধু শাড়ি নয়, মা-দিদিমা-ঠাকুমার গল্প, তাঁদের আশীর্বাদ ও ভালবাসা। আপনার পুজোর সাজ হয়ে উঠবে আরও স্মরণীয়।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।