পুজোর সাজে সাবেকিয়ানার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। শাড়িতে যেমন বাঙালি নারীর সাজ পূর্ণতা পায়, তেমনই ধুতি-পাঞ্জাবিতে পুরুষের সাজেও ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানা। কিন্তু ধুতি পরার অভ্যাস না থাকলে পুজোর ভিড়ে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ধুতি পরে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।
১। বেরোনোর আগে একটু হাঁটাচলা করে নিন। বাড়িতে ধুতি পরে কয়েক মিনিট হাঁটুন, বসুন এবং সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে দেখুন। কোথাও কাপড় আলগা হচ্ছে কি না, কিংবা পায়ের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে কি না, তা আগে থেকেই বুঝতে পারবেন।
২। কোমরের বাঁধন ঠিক আছে কি না, দেখে নিন। ধুতির গোঁজা অংশ ঢিলে থাকলে হাঁটাচলার সময়ে কাপড় খুলে আসতে পারে। আবার অতিরিক্ত আঁটসাঁট করে বাঁধলেও অস্বস্তি হবে। তাই এমন ভাবে বাঁধুন, যাতে দীর্ঘক্ষণ পরেও স্বচ্ছন্দে থাকা যায়।
৩। কুঁচি গুছিয়ে রাখুন। ধুতির সামনের ভাঁজগুলি ঠিকঠাক করে গুঁজে নিন। কুঁচি এলোমেলো হয়ে গেলে দেখতে খারাপ লাগার পাশাপাশি হাঁটাচলার সময়েও অসুবিধা হতে পারে।
৪। ধুতির দৈর্ঘ্য বুঝে পরুন। খুব লম্বা ধুতির নীচের অংশ মাটিতে ঘষা খেতে পারে। আবার খুব ছোট হলে সাবলীল ভাবে হাঁটাচলা করা মুশকিল। তাই নিজের উচ্চতা অনুযায়ী ধুতির দৈর্ঘ্য ঠিক করে নিন।
৫। সেফটিপিন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। ধুতির ভাঁজ ধরে রাখতে পিন কাজে আসতে পারে। তবে পিন যেন ত্বকে বিঁধে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। এমন জায়গায় পিন লাগান, যাতে হাঁটাচলার সময়ে টান পড়ে কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে।
৬। জুতোর সঙ্গে সাজের সামঞ্জস্য রাখুন। ধুতি-পাঞ্জাবির সঙ্গে নাগরা কিংবা আরামদায়ক স্যান্ডেল মানানসই। তবে পুজোর ভিড়ে অনেকটা হাঁটতে হলে নতুন জুতো এড়িয়ে চলুন। পরিচিত, আরামদায়ক জুতো পরলে পায়ে ফোসকা পড়া কিংবা ব্যথার আশঙ্কা কমবে।
৭। সিঁড়ি ওঠানামার সময়ে সাবধান থাকুন। ঠাকুর দেখতে গিয়ে মণ্ডপের সিঁড়ি কিংবা ভিড়ের মধ্যে চলাচলের সময়ে ধুতির নীচের অংশে পা আটকে যাচ্ছে কি না, খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে সামনের অংশ সামান্য তুলে ধরে হাঁটুন।
৮। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পুজোয় হঠাৎ বৃষ্টি হলে ভেজা ধুতি ভারী হয়ে যেতে পারে এবং হাঁটাচলায় অসুবিধা হতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে বেরোন। সঙ্গে ছোট ছাতা রাখলেও সুবিধা হবে।
৯। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আরামের দিকে নজর দিন। ধুতি, পাঞ্জাবি ও জুতো—সব কিছুই এমন বেছে নিন, যাতে একটানা হাঁটাচলায় অস্বস্তি না হয়। প্রথম বার ধুতি পরলে খুব জটিল কুঁচির বদলে সহজে সামলানো যায়, এমন ধরন বেছে নেওয়াই ভাল।
সাবেকি পোশাকে পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে ধুতির কায়দা জানা যেমন জরুরি, তেমনই দরকার স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করার প্রস্তুতি। আগে থেকে একটু অভ্যাস করে নিলেই পুজোর ভিড়ে সাজ সামলানো অনেক সহজ হবে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।