বাঙালির পুজো মানেই তো পেট পুজো। আর বাঙালিদের সবথেকে বড় পুজো, দুর্গাপুজোয় কি ব্যতিক্রম হবে নাকি? মোটেই না!
পুজোর দিনে নিজের হাতে রেঁধে চমকে দিতে চান বাড়ির সকলকে? চটজলদি পাতে দিতে চান সুস্বাদু নিরামিষ কোনও পদ? বেশ তো! তবে বানিয়ে ফেলুন বেগুন বাসন্তী। ভাত হোক বা লুচি, যে কোনও কিছুর সঙ্গেই জমে যাবে এই পদ। বেগুন ভাজা, বেগুনের কোর্মা সব কিছুর স্বাদ ভুলিয়ে দেবে এই রান্না। ষষ্ঠী হোক বা অষ্টমী, পাতে পড়লেই জিভে জল আসতে বাধ্য। তবে আসুন, জেনে নিই বেগুন বাসন্তীর রেসিপি।
উপকরণ - ২টি বেগুন , নুন, চিনি, হলুদ, ২ চা চামচ কালো সর্ষে, ১ চা চামচ হলুদ সর্ষে, ২ চা চামচ পোস্ত, কাঁচা লঙ্কা, নারকেল কোরা, নারকেলের দুধ, সর্ষের তেল, ১/২ চা চামচ কালো জিরে, হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, ঘি।
পদ্ধতি - প্রথমে দুটো বেগুনকেই মাঝখান থেকে দুই ভাগ করে নিতে হবে। তার পরে এক একটি ভাগের মাঝ বরাবর চিরে দিতে হবে। বেগুনে পরিমাণ মতো নুন এবং হলুদ ভাল ভাবে মাখিয়ে নিতে হবে। নুন-হলুদ মাখানো বেগুন সে ভাবেই রেখে দিতে হবে ১০-১৫ মিনিট। এর পরে মশলা তৈরির জন্য একটি মিক্সিং জারে ২ চা চামচ কালো সর্ষে, ১ চা চামচ হলুদ সর্ষে, ২ চা চামচ পোস্ত, ১/৪ চা চামচ নুন, ৩টি কাঁচা লঙ্কা, ২ টেবিল চামচ নারকেল কোরা এবং পরিমাণ মতো জল দিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ বানিয়ে নিতে হবে।
মশলা তৈরি হয়ে গেলে এ বার গ্যাসে কড়াই বা ফ্রাইং প্যান বসিয়ে সামান্য গরম করে নিন। তাতে ৪ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করে মাঝারি আঁচে বেগুনগুলিকে ভাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। এ বার গ্যাসের আঁচ কম রেখে ফোড়ন হিসাবে দিতে হবে ১/২ চা চামচ কালো জিরে এবং তিনটে চেরা কাঁচা লঙ্কা। ৩০-৪০ সেকেন্ড ভাল করে ভেজে নিতে হবে কালো জিরে এবং লঙ্কাগুলোকে। ফোড়ন ভাল করে ভাজা হয়ে গেলে বেটে রাখা মশলার অর্ধেকটা দিয়ে দিতে হবে এবং কম থেকে মাঝারি আঁচে রেখে ভাল করে কষিয়ে নিতে হবে। ২-৩ মিনিট কষিয়ে নেওয়ার পরে বাকি অর্ধেক মশলা কড়াইয়ে দিয়ে দিন। এর পরে ১/৪ কাপ জল দিয়ে ভাল করে আবারও মশলা কষাতে হবে ৫-৬ মিনিট। তাতে এ বার দিতে হবে সামান্য হলুদ এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। এই সব কিছু ভাল করে কষানোর পরে স্বাদমতো নুন এবং চিনি দিয়ে দিতে হবে। মশলা থেকে ধীরে ধীরে সুগন্ধ বেরোতে শুরু করলে ১/২ কাপ নারকেলের দুধ ঢেলে ঢাকা দিয়ে রাখুন ২-৩ মিনিট। এর পরে ফের কম আঁচে মশলা নাড়াচাড়া করতে হবে ভাল করে। এ বার মশলার মধ্যে ধীরে ধীরে আগে থেকে ভেজে রাখা বেগুনগুলিকে দিয়ে দিন। গ্যাসের আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন ৫ মিনিট। ঢাকনা খোলার পরে খুব সাবধানে বেগুনগুলিকে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। তার পরে আবারও ২ মিনিট ঢাকা দিয়ে বেগুনগুলিকে রান্না হতে দিতে হবে।
শেষমেশ ঢাকনা খুলে সামান্য ঘি দিয়ে দিলেই বেগুন বাসন্তী একদম তৈরি। এর পরে নামিয়ে নিয়ে গরম গরম ভাত বা লুচির সঙ্গে পুজোর দিনে পরিবেশন করেই দেখুন না! সবাই কেমন তৃপ্তি করে খায়!
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।