এ বছরের মতো উৎসবের মরসুম শেষ হয়ে এল প্রায়। সন্ধ্যার দিকে ঠান্ডা বাতাসে শিরশিরানি। শীত আসব আসব ভাব। মন কেমন করা আলোয় দিন ফুরিয়ে আসছে তাড়াতাড়ি। এ সবের সঙ্গে এগিয়ে আসছে ভাই ফোঁটাও। এই দিনটা নিয়ে ভাই বোনদের মধ্যে অনেকটাই উত্তেজনা কাজ করে, সে বয়স যতই হোক না কেন!
আর বাঙালির যে কোনও উৎসব মানেই তো খাওয়া-দাওয়া। এই বিশেষ দিনটায় নিজের ভাই বা বোনকে ভালবেসে কিছু খাওয়াতে ইচ্ছে হতেই পারে। আর সেই জন্যই রইল কাঁচা লঙ্কা মাংসের রেসিপি। খুব একটা বেশি উপকরণ লাগে না। সহজ, সাধারণ পদ কিন্তু ভালবেসে রান্না করলে স্বাদে অতুলনীয়। আর যদি ভাই বা বোনের দেওয়া উপহার পছন্দ না হয়, তা হলে কষে ঝালও দিতে পারেন! ব্যস! কুপোকাত!
উপকরণ
পাঁঠার মাংস - ১কেজি
পেঁয়াজ - ৪টি
ধনেপাতা বাটা - ১ কাপ
চেরা কাঁচা লঙ্কা - ৮–১০টি
কাঁচা লঙ্কা বাটা - ২ টেবিল চামচ
আদা বাটা - ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা - ৩ টেবিল চামচ
গোলমরিচ বাটা - ২ চা চামচ
ধনেপাতা কুচি - ২ টেবিল চামচ
পাতি লেবুর রস - ১ টেবিল চামচ
চিনি - ১ চা চামচ
নুন – স্বাদ মতো
ঘি - ৪ টেবিল চামচ
প্রণালী
প্রথমেই মাংস ধুয়ে জল ধরিয়ে একটা বড় পাত্রে নিয়ে নিন। এ বারে তার মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা আর ধনেপাতা বাটা দিয়ে ভাল করে মেখে রেখে দিন। আর চারটে পেঁয়াজ ঝিরিঝিরি করে কেটে নিন।
এর পরে প্রথমেই কড়াইতে দিন ঘি। ঘি গরম হলে তাতে কেটে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিন। পেঁয়াজের রং লালচে হয়ে এলে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস দিয়ে দিন কড়াইতে। আর দিন গোলমরিচ বাটা। এ বার সব কিছু ভাল ভাবে মিশিয়ে দশ থেকে পনেরো মিনিট কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে গেলে দিন চার কাপ পরিমাণ জল, স্বাদ মতো নুন, আর আট-দশটি চেরা কাঁচা লঙ্কা। ঝালের পরিমাণ কতটা সহ্য করতে পারবেন, সেই অনুযায়ী লঙ্কার পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারেন। সব কিছু ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে যদি সময় কম থাকে, তা হলে প্রেসার কুকারে ঢেলে দিন মাংস। তা হলে তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়ে যাবে।
আর যদি আপনার হাতে সময় থাকে, তবে কড়াইতে মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে মাংস ভাল করে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
মাংস যখন সেদ্ধ হয়ে আসবে এবং জল শুকিয়ে মাখা মাখা হয়ে আসবে, তখন চিনি, ধনেপাতা কুচি আর ঘি উপর থেকে ছড়িয়ে দিন। এর পরে আঁচ নিভিয়ে দিয়ে দিন লেবুর রস। শেষে সব কিছু একসঙ্গে নেড়েচেড়ে ভাল করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি কাঁচা লঙ্কা মাংস।
প্রেসার কুকারে রান্না করলে মাংস সেদ্ধ হওয়ার পরেও যদি অনেকটা জল থেকে যায়, তবে কুকারে রেখে বা কড়াইয়ে ঢেলে নিয়ে জল খানিকটা শুকিয়ে নিন। এর পরে একই ভাবে শেষ করতে হবে রান্নাটা।
ভাইফোঁটার দুপুরে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই কাঁচা লঙ্কা মাংস। যদি দেখেন, সবার মুখে হুশ হাশ শব্দ, তবু কেউ খাওয়া থামাতে পারছে না— বুঝবেন কষ্ট করে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে মাংস রান্না করা সার্থক!
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।