ভাইফোঁটার দিন বাড়ির পাতেই থাক গোয়ার বিশেষ পদ। টক-ঝাল স্বাদের মটন ভিন্দালু গোয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাংসের পদ। পর্তুগিজ রন্ধনশৈলীর প্রভাব রয়েছে এই রান্নায়। ভিনিগার, শুকনো লঙ্কা এবং নানা মশলার মিশেলে তৈরি এই পদ ভাত কিংবা পরোটার সঙ্গে জমে যায়। ভাইফোঁটার ভোজে পরিবারের সকলকে চমকে দিতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মটন ভিন্দালু।
উপকরণ
- পাঁঠার মাংস: ১ কেজি
- আদা-রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচ
- হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
- ভিনিগার: ২-৩ টেবিল চামচ
- নুন: স্বাদমতো
- কাশ্মীরি শুকনো লঙ্কা: ৬-৭টি
- সাধারণ শুকনো লঙ্কা: ৪-৫টি
- গোটা জিরে: ২ চা চামচ
- গোটা গোলমরিচ: ২ চা চামচ
- লবঙ্গ: ৮-১০টি
- দারচিনি: ২-৩টি ছোট কাঠি
- সর্ষে দানা: ২ চা চামচ
- রসুন কোয়া: ৮-১০টি
- পেঁয়াজ কুচি: ৪টি
- সর্ষের তেল : ৪-৫ টেবিল চামচ
- চিনি: ১-১.৫ টেবিল চামচ
- তেঁতুলের জল: ১ টেবিল চামচ
- গরম জল: ১-১.৫ কাপ
- ধনেপাতা কুচি: ৩ টেবিল চামচ
প্রণালী
১. প্রথমে পাঁঠার মাংস ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এ বার মাংসে ভিনিগার, আদা-রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো এবং নুন মাখিয়ে অন্তত ২ ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখুন। সম্ভব হলে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।
২. এ বার একটি শুকনো কড়াইতে কাশ্মীরি ও সাধারণ শুকনো লঙ্কা, জিরে, গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারচিনি এবং সর্ষে দানা হালকা করে ভেজে নিন।
৩. ভাজা মশলাগুলি ঠান্ডা হলে ভিনিগার ও সামান্য জল দিয়ে মিক্সিতে মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন।
৪. কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি ও কিছুটা গাঢ় বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এ বার তৈরি করে রাখা মশলার পেস্ট এবং তেঁতুলের জল দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাল করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন কষানো হয়েছে।
৫. এ বার ম্যারিনেট করা মাংস কড়াইতে দিয়ে উচ্চ আঁচে ৮-১০ মিনিট ভাল করে কষিয়ে নিন। এর পর চিনি এবং পরিমাণমতো গরম জল মিশিয়ে দিন।
৬. মাংস প্রেশার কুকারে দিয়ে মাঝারি আঁচে তিনটি সিটি দিন। তার পর আঁচ কমিয়ে আরও ১৫-২০ মিনিট মৃদু আঁচে রান্না হতে দিন। চাইলে কড়াইতেও রান্না করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঢাকা দিয়ে ১-১.৫ ঘণ্টা মাংস সেদ্ধ হতে দিন। প্রয়োজন হলে সামান্য গরম জল যোগ করুন।
৭. মাংস ভাল করে সেদ্ধ হয়ে গেলে এবং ঝোল ঘন হয়ে এলে উপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
ব্যস, তৈরি গোয়ার জনপ্রিয় মটন ভিন্দালু। গরম ভাত কিংবা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন এই টক-ঝাল-মশলাদার পদ। ভাইফোঁটার ভোজে ভাইবোন ও পরিবারের সকলের সঙ্গে জমে উঠুক খাওয়াদাওয়া।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।