কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় আলপনায় সাজুক ঘর, কোন নকশায় মুগ্ধ হবেন মা লক্ষ্মী? রইল ১২ রকম নকশার হদিস
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় ঘর সাজানোর অন্যতম অনুষঙ্গ আলপনা। দেবীর পায়ের ছাপ থেকে পদ্ম, আম্রপল্লব, ধানের শিষ, কোন কোন নকশায় সাজিয়ে তুলবেন পুজোর জায়গা? রইল ১২ রকম আলপনার ভাবনা।
পুজোর ঘরে ফাঁকা জায়গা থাকলে বেছে নিতে পারেন বৃত্তাকার আলপনা। নকশার চারপাশে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন পুজোর স্থান। নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বৃত্তাকার নকশায় যোগ করতে পারেন নানা নকশার ছোঁয়া।
লক্ষ্মীপুজোয় পুজোর ঘট সাজাতে আম্রপল্লবের ব্যবহার প্রচলিত। সেই আম্রপল্লবের নকশা জায়গা করে নিতে পারে আলপনাতেও। পাতা ও লতার নকশায় সাজিয়ে তুলুন পুজোর ঘর।
লক্ষ্মীপুজোর আলপনায় দেবীর পায়ের ছাপ অত্যন্ত পরিচিত একটি নকশা। প্রাচীনকাল থেকেই এই রীতি প্রচলিত। বাড়ির সদর দরজা থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত এঁকে দিতে পারেন লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ।
পুজোর সময় দেবীর হাতে ধানের শিষ দেওয়া হয়। আলপনার নকশাতেও ধানের শিষ ব্যবহার করতে পারেন। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় আলপনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে এই নকশা হতে পারে অন্যতম পছন্দ।
আরও পড়ুন:
প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী প্রস্ফুটিত পদ্মে বিরাজ করেন। তাই লক্ষ্মীপুজোর আলপনায় পদ্মফুলের নকশা বিশেষ ভাবে মানানসই। ছটি পাপড়ির আদলে পদ্মের নকশা এঁকে তার সঙ্গে যোগ করতে পারেন নিজের পছন্দের কারুকাজ।
বাড়ির সদর দরজায় আলপনা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বেছে নিতে পারেন সরু নকশা। দরজার সামনে খুব চওড়া আলপনা না দিয়ে হালকা নকশা আঁকলে তা সহজেই নজর কাড়বে। যাতায়াতের পথও থাকবে সুবিধাজনক।
আলপনায় কলকার ব্যবহার বহু পুরনো। বাঁকানো রেখা ও নকশার মেলবন্ধনে তৈরি করতে পারেন সুন্দর আলপনা। তার সঙ্গে ফুল ও পাতার নকশা যোগ করলে আলপনায় আসবে আরও বৈচিত্র্য।
ফুল ও পাতার নকশা দিয়ে সহজেই সাজিয়ে তোলা যায় পুজোর ঘর। সাদা আলপনার মাঝে মাঝে লাল রঙের ছোঁয়া দিলে নকশায় আসবে অন্য মাত্রা। বাড়ির বিভিন্ন কোণে এই ধরনের আলপনা ব্যবহার করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
মেহন্দির নকশা পছন্দ হলে তা থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে পারেন আলপনার জন্য। জালের মতো সূক্ষ্ম নকশা, ছোট ছোট ফুল ও বৃত্তের কারুকাজে পুজোর ঘর সাজিয়ে তুলতে পারেন অন্য ভাবে।
পুজোর অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ শঙ্খ। সেই শঙ্খের আদলেই তৈরি করতে পারেন আলপনার নকশা। বৃত্তাকার বা লতানো নকশার সঙ্গে শঙ্খের ছবি মিলিয়ে দিলে আলপনায় আসবে নতুনত্ব।
লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের সঙ্গে ছোট ছোট ফুলের নকশা জুড়ে দিতে পারেন। সদর দরজা থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত এই নকশা সাজিয়ে দিলে আলপনায় আসবে ছন্দ। চাইলে পায়ের ছাপের দু’পাশে পাতার নকশাও যোগ করতে পারেন।
আলপনায় সাদা রঙের পাশাপাশি লাল রঙ ব্যবহার করতে পারেন। সাদা নকশার মাঝে লাল রঙের ছোট ছোট ফুল, বিন্দু বা রেখা আলপনায় এনে দেবে বৈচিত্র্য। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বাড়ির সাজে এই রঙের যুগলবন্দি হতে পারে আকর্ষণীয়। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)